ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রথম মালয়েশীয় তেলের ট্যাঙ্কার জাহাজটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি যুদ্ধের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ থাকলেও মালয়েশিয়ার জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে ইরানি দূতাবাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছে, “আমরা বলেছিলাম ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বন্ধুদের ভুলে যায়নি; প্রথম মালয়েশিয়ান জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে গেছে।”
এই বার্তার মাধ্যমে ইরান সংকটের সময়েও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে দেয়া ‘বন্ধুত্বের’ এই বার্তা মূলত গত মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ফসল বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে যখন বেশিরভাগ দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা রয়েছে, তখন মালয়েশিয়ার একটি ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদে যেতে দেয়া ইরানের একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এর মাধ্যমে বিশ্বকে দেখাতে চায় যে তারা কেবল শত্রুতা নয়, বরং মিত্রদের সহযোগিতাতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে মার্কিন হুমকির মুখে ইরানের এই নমনীয়তা কতক্ষণ স্থায়ী হয়, সেটি এখন বড় প্রশ্ন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। একদিকে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ইরান তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশীয় জাহাজের এই সফল প্রস্থান একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি এটি অন্য মিত্র দেশগুলোর জন্যও প্রযোজ্য হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানকে আরও কঠোর হওয়ার পথে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
শীর্ষনিউজ