Image description

Shafquat Rabbee Anik (শাফকাত রাব্বি অনিক)


 
মঙ্গলবার যদি ট্রাম্প যা যা থ্রেট দিয়েছে তার এক চতুর্থাংশ পালন করে , তাহলে পাল্টা পাল্টি আক্রমণে পুরা মধ্যপ্রাচ্য এবং তেল গ্যাসের বাজার কম পক্ষে ৩-৬ মাসের জন্যে বাজে ভাবে ইম্পাক্টটেড হবে ।
এইটা গ্যারান্টিড যে এই পুরো বছরের জন্যে ইনফ্লেশন সারা পৃথিবীতে উচ্চ হার ধরে রাখবে এই যুদ্ধ যেই দিকেই যাক না কেন।
বাংলাদেশের জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ পুরা গালফ এলাকা আগামী অন্তত এক বছরের জন্যে ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক শঙ্কার মধ্যে পড়েছে।
অর্থাৎ আমরা ইতমধ্যেই একটা ক্রাইসিসের মধ্যে পরে গেছি। এখন জাস্ট ক্রাইসিসটি কতো জটিল এবং কত দিনের সেটা বুঝার পালা।
সৌদি আরব, আরব আমিরাত , কাতার --- এই তিনটা দেশ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলবার ট্রাম্প যদি আসলেই তার দেওয়া থ্রেট অনুযায়ী কাজ করে , এই প্রতিটি দেশ আক্রান্ত হবে ইরানের দাড়া। বিশেষ করে আরব আমিরাত।
এই যুদ্ধের জন্যে বাংলাদেশ আগামী ৩ থেকে ৬ মাস অতি ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় থাকবে। ঝুঁকির রেঞ্জটা এমন :
** "অল্প" বা ম্যানেজেবল ক্ষয় ক্ষতি (সম্ভাবনা ৭০%) :
 
খুব কম করে হলেও তেল গ্যাসের দাম বাড়াতেই হবে সরকারকে , হয়তো ২৫% থেকে ৫০ % পর্যন্ত, এর কারণে জিনিস পত্রের দাম বাড়বে , বিনিয়োগ কমবে।
** মাঝারি ক্ষয় ক্ষতি (সম্ভাবনা ২০ %)
 
উপরের সব কিছ, তার উপর রেমিটেন্স এর উপর মাঝারি ঢাক্কা, এক বছরে ১-৩ বিলিয়ন ডলার কম রেমিটেন্স আসা ( মানে রেমিটেন্স ১০% পর্যন্ত কমে যাওয়া )। সাময়িক, দুই এক সপ্তাহের জন্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানা বন্ধ।
 
** বাপক ক্ষয় ক্ষতি : (সম্ভাবনা ১০ %)
 
এটার সম্ভাবনা এখনো কম রাখলাম , কারণ মঙ্গলবার এখনো আসে নাই , এবং এখনো আশা করছি ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত পিছু হবে।
যদি ট্রাম্প তার দেওয়া লেটেস্ট থ্রেট অনুযায়ী আসলেই কাজ করে, ইরানের তেল গ্যাস দখলে নেয় , ধ্বংস করে ইত্যাদি , এবং ইরান ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করে গালফ এলাকায় , তাহলে এই লেভেলে ক্ষতির সম্ভাবনা সাথে সাথে ৫০% - ৭৫% এর বেশি হয়ে যাবে। এটাকে বলে "কন্ডিশনাল সম্ভাবনা"
 
এই লেভেলে ক্ষতি হলে বাংলাদেশ পুরা কোভিড লেভেলে বা তার চাইতেও বড় ইকোনোমিক শক খাবে ।
ব্যাপক হারে অনেক ধরণের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকবে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। দীর্ঘ সময়ের জন্যে পুরা মধ্যেপ্রাচ্য রিসেশনে পড়বে। বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক ফিরে আসবে , দেশের মূল রেমিটেন্স ইনকাম ২৫% এর বেশি কমে যেতে পারে (৭ - ১০ বিলিয়ন ডলার)। জ্বালানির দাম আকাশ চুম্বি , রাজনৈতিক অস্থিরতা সব কিছু হবে।
একটা ভালো সম্ভাবনা (যদিও শুনতে খারাপ শোনাবে ) মধ্যে প্রাচ্যে ব্যাপক ধ্বংস যজ্ঞ হলে, একসময় প্রচুর শ্রমিক লাগবে পুনর্গঠন কাজে, যার বেনিফিট বাংলাদেশের মতো শ্রমিক রপ্তানি কারক দেশ পাবে , তবে সেটা ৬ - ১২ মাস বা তারও পরে।
 
বাংলাদেশের উচিত হবে খুব সিরিয়াসলি উপরের মতো একাধিক লেভেলের সিচুয়েশন হ্যান্ডলিং করার জন্যে সর্বোচ্চ শক্তি এবং ফোকাস নিয়োগ করা, সরকার এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে ডায়ালগ , ঐক্যমত্য ইত্যাদি নিয়ে কাজ শুরু করা।
 
খুব ভালো হবে একটা ক্রাইসিস মোকাবেলা টাস্ক ফোর্স এখনই শুরু করা গেলে, এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবসায়ী এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের দেশের সব সাইড থেকে রাখা।