‘উপসাগরীয় প্রথম দেশ হিসেবে তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন দাবি করে বেশকিছু পোস্ট ছড়ানো হয়েছে।
এ সম্পর্কিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দাবিটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত পোস্টগুলোতে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, ‘তাদের দেশের মাটিতে বিদেশি ঘাঁটি রাখার কারণে কাতারকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। এবং কাতার ও ইরানের সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ হলেও, কাতারের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই সম্পর্ককে আর কখনো আঘাত করতে দেওয়া হবে না। আমেরিকা কাতারের কাছে করা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং সবসময় নিজেদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর ফলে, কাতার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এতে আরও দাবি করা হয়, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমেরিকা যদি সত্যিই কাতারের স্বার্থের কথা ভাবত, তাহলে তারা অন্য কোনো দেশে হামলা না করার সিদ্ধান্তকে সম্মান করত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা শুধুমাত্র অন্য একটি দেশকে (ইসরায়েল) রক্ষা করার জন্য কাতারের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে (বর্তমান এক্স) এবং ফেসবুক রাশিয়া এবং ইরানভিত্তিক কিছু প্রোফাইল থেকে দাবিটি অন্যান্য ভাষায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়, সালাউদ্দিন নামে একটি প্রোফাইল থেকে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ৮টায় পোস্ট করা দাবিটি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭৩ হাজারের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া পেতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও পোস্টটিতে ৩ হাজারের কাছাকাছি মন্তব্যের পাশাপাশি ৪ হাজার ৩ শতাধিকবার শেয়ার করা হয়েছে।
প্রচারিত পোস্টটি বিশ্বাস করে সেখানে প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখা যায় নেটিজেনদের অনেককে। যেমন—সায়েদুর রহমান নামে একজন লিখেছেন,‘সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাতারের শাসকদের শক্তিশালী অবস্থান মুসলিম বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। মধ্য প্রাচ্যের বাকি দেশগুলোকেও ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের স্বার্থে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করা।’
এ সম্পর্কিত কি-ওয়ার্ড সার্চ করে কাতার থেকে প্রকাশিত এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবিটির পক্ষে যায় এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
তবে ১৪ জানুয়ারিতে প্রকাশিত আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে কাতার থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহারের খবর জানানো হয়। তবে সে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কারণ, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে ইরান আশেপাশের উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান আঘাত করার হুঁশিয়ারি দেয়। সে সময় কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সংখ্যক সেনা সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। আল উদেইদ হলো মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি (প্রায় ১০,০০০ সেনা) এবং ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর।
অর্থ্যাৎ, প্রথম উপসাগরীয় দেশ হিসেবে কাতার তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত দাবিটি ভুয়া।