Image description
সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আগে থেকেই মার্কিন জনগণের কাছে খুব একটা জনপ্রিয় ছিল না। কিন্তু এখন এটি আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর কারণ, ইরানের হামলায় একের পর পর মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ক্ষতি। ইতোমধ্যে খবর এসেছে যে, একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে ভূপাতিত হয়েছে, বিশেষ করে দুইজন ক্রু সদস্যের অবস্থা নিয়ে ব্যাপক তুলকালাম শুরু হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, একজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে অন্যজনের কী হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

এরপর আরও জানা যায়, শুক্রবার ইরান আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমানেও আঘাত হানে। তবে ওই বিমানের পাইলট ইরানের সীমানা থেকে বের হয়ে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের যুদ্ধে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। তবে একই দিনে দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় জড়িত সেনাসদস্যরা এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। পেন্টাগন জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ২৪৭ জন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য, ৬৩ জন নৌবাহিনীর নাবিক, ১৯ জন মেরিন সদস্য এবং ৩৬ জন বিমানবাহিনীর সদস্য। হতাহতের ঘটনাটি সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় ঘটেছে।

যদিও এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় না যে ইরান হঠাৎ করে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হয়ে গেছে। তবুও, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি তার সামরিক আধিপত্য, সেখানে এই ঘটনাগুলো অসম যুদ্ধের ঝুঁকি ও খরচকে সামনে এনে দেয়—যা ইতোমধ্যেই মার্কিন জনগণ গ্রহণ করতে পারছে না। একই সঙ্গে এই ঘটনাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের সেই দাবিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যেখানে তারা বলেছিলেন ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

 

মার্চ ৪ তারিখে এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্বের দুই শক্তিশালী বিমানবাহিনী ইরানের আকাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং এটিকে তিনি ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশসীমা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ট্রাম্পও মার্চ ২৪-এ বলেছিলেন, ‘আমাদের বিমান তেহরানের ওপর দিয়ে উড়ছে, তারা কিছুই করতে পারছে না।’ তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের কোনো কার্যকর নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।

কিন্তু বাস্তবে দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা এই দাবিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও এটি হাজার হাজার বিমানের মধ্যে মাত্র দুটি, তবুও প্রশাসনের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বা ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশসীমা’ সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো অতিরঞ্জিত বলে মনে হচ্ছে। এমনকি পূর্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সাফল্যের দাবিতে অতিরঞ্জনের অভিযোগ উঠেছে। যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে বলে দাবি, যা পরে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সমর্থন পায়নি।

 

রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতি প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। কারণ এই যুদ্ধে তাদের প্রধান শক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছিল সামরিক সাফল্য। কিন্তু মার্কিন জনগণ এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাচ্ছে না, এবং অর্থনৈতিক প্রভাব—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মানুষকে আরও হতাশ করছে।

সব মিলিয়ে হেগসেথ অভিযোগ করেছেন যে, গণমাধ্যম সামরিক সাফল্যকে যথাযথভাবে তুলে ধরছে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, এবং ইরানের আকাশসীমা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ার দাবিগুলোও আগের মতো দৃঢ়ভাবে টিকেও নেই।