Image description

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রতি কঠোর না হলে তারা মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলকে এত দিনে শেষ করে দিত। তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করার ফলে ইসরায়েল ও গোটা অঞ্চল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তা না হলে এত দিনে তারা গোটা অঞ্চলকে শেষ করে দিত।’ খবর আলজাজিরা

স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের এক বিশাল ভান্ডার তৈরির পথ প্রশস্ত করত। তারা বহু বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেয়ে যেত এবং সেগুলো ব্যবহার করতে শুরু করত।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আর তাহলে পৃথিবীটা অন্যরকম হতো। এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্য বা ইসরায়েল বলে কিছুর অস্তিত্ব থাকত না।’

ট্রাম্প যে চুক্তির কথা বলছেন, ওই চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক কড়া নজরদারির বিনিময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছিল বলে জানাচ্ছে আলজাজিরা।

অন্যদিকে, ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি।

একই ভাষণে ইরানের নৌবাহিনী বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের বিমানবাহিনী ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, অধিকাংশ নেতা নিহত হয়েছেন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা সংকুচিত হয়ে এসেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বড় জয় পাচ্ছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার বাহিনী ইরানে বিধ্বংসী আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যখন থেকে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশ ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করেছে, তার মাত্র এক মাস পার হয়েছে। এই চার সপ্তাহে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য বিজয় অর্জন করেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গিয়েছে, এবং তাদের অস্ত্র কারখানা ও রকেট লঞ্চারগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, খুব সামান্যই অবশিষ্ট আছে।’