ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে কমল তেলে দাম। গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) বিশ্ববাজারে বড় পতনের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের এই মানদণ্ডের দাম ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৬৯ ডলার (৭৭ দশমিক ৪২ পাউন্ড) হয়েছে।
একই সময়ে নাইমেক্স লাইট সুইটের দাম ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৫৫ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে গতকাল সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারে উঠেছিল। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তা দ্রুত ৯৬ ডলারে নেমে আসে। তবে ট্রাম্পের দাবি ইরানের প্রত্যাখ্যানের পর আজ মঙ্গলবার তেলের দাম ঠেকেছে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে।
মূলত ইরানের বক্তব্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
দুই পক্ষের এমন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
ট্রাম্প বলেছিলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের পূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে গত দুই দিনে ইরানের সঙ্গে ‘গভীর, বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। এর ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক হামলা আগামী ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।”
এই সময়ের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং এর সফলতার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে বলেও জানান ট্রাম্প।
এদিকে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে প্রণালিটি তারা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।