ইরান যুদ্ধ এবার ভারত মহাসাগর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুটি গুরুত্বপূর্ণ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের যৌথ সামরিক ঘাঁটি এবং এটি অবস্থিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জে। প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের কোনোটিই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেনি। একটি মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ে। আরেকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া একটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সেটি ধ্বংস করা গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ইরানের ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে। এই দূরত্বে হামলার সক্ষমতা ইরানের আছে- এমন ধারণা আগে খুব একটা করা হয়নি। এর অর্থ হলো, তেহরান এখন ইউরোপের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হতে পারে। এ বিষয়ে এখনো পেন্টাগন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনিশ তেওয়ারি এক্সে এক পোস্টে বলেন, যদি খবরটি সত্য হয় যে ইরান মধ্য ভারত মহাসাগরের গভীরে ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে হামলার চেষ্টা করেছে, তাহলে ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং পশ্চিমা বিশ্বের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, একই সঙ্গে দক্ষিণ দিকেও আঘাত করেছে।
ভারত মহাসাগরে আগের সংঘর্ষ
কয়েক সপ্তাহ আগে এই যুদ্ধের প্রথম ভারত মহাসাগরীয় সংঘর্ষে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা’কে টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে। এতে ৮৫ জনেরও বেশি নাবিক নিহত হন। ওই ফ্রিগেটটি মিলান ২০২৬ নৌ মহড়াতে অংশ নেয়ার পর নিজ দেশে ফিরছিল। এই বহুজাতিক নৌ মহড়াটি আয়োজন করেছিল ভারত। পেন্টাগন ইতিমধ্যে বলেছে, ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করা এই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি। এই যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি।
ডিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব
ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি অতীতে আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন বোমা হামলা অভিযানের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে এটি দুটি বৃটিশ সামরিক স্থাপনার একটি, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য ব্যবহার করছে বলে লন্ডন দাবি করে। বৃটেন ইতিমধ্যে চাগোস দ্বীপপুঞ্জে সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে। তবে দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি লিজ ধরে রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই হস্তান্তরের বিরোধিতা করেছেন।