Image description

নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহকবলিত বর্নো রাজ্যে একাধিক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছে।

সোমবার রাতে রাজ্যটির পুলিশ কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরিতে এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বর্নো গত ১৭ বছর ধরে নাইজেরিয়ার ইসলামপন্থি বিদ্রোহের কেন্দ্র হয়ে আছে আর তাতে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সোমবার দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও মাইদুগুরির তিন বাসিন্দা রয়টার্সকে জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে এক পোস্ট অফিসে প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে, এর পরপরই নিকটবর্তী জনপ্রিয় সোমবারের বাজারে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে।

এরপর সন্ধ্যার আগে মাইদুগুরি টিচিং হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় আরেকটি এবং পূর্বাংশের কেলেরি এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে।

বিবৃতিতে রাজ্য পুলিশ বলেছে, “প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমারুরা ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে।”

তবে এসব হামলার জন্য কারা দায়ী হতে পারে বিবৃতিতে সে বিষয়ে কোনো অনুমান প্রকাশ করা হয়নি। কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকারও করেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে আর আরও আক্রমণ ঠেকাতে শহরজুড়ে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। হামলাগুলোর বিষয়ে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হামলাগুলোতে ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী বোকো হারামের আক্রমণের ছাপ রয়েছে।

বোকো হারাম ও আরেক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স একসঙ্গে বর্নোতে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে তুলছে।

মাইদুগুরি বর্নোর অন্যতম নিরাপদ শহর। কিন্তু গত বছর খ্রীস্টীয় বড়দিনের আগে এক সন্দেহভাজন আত্মঘাতী বোমারু একটি মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অন্তত পাঁচজন মুসল্লিকে হত্যা ও আরও ৩৫ জনকে আহত করে। তারপর থেকে শহরটিতে সোমবারই প্রথম হামলার ঘটনা ঘটল।

নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীরা এখন দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলেও নিজেদের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছে। ডিসেম্বরে এসব জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ওয়াশিংটন জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইরত নাইজেরীয় বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দেশটিতে অল্প কিছু সেনা মোতায়েন করেছে।