Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মুসলিম দেশগুলোকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এ বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। ইরানের আধা-সামরিক বার্তা সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অঞ্চলের দেশগুলোর বাইরের শক্তিকে একতা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।

পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ইরান যখন আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজছিল, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন ও তেল আবিব নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এটি পরিষ্কার যে, আমেরিকা এই অঞ্চলে প্রকৃত শান্তি চায় না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই, বরং আমরা একে অপরের ভাই। তেহরান বর্তমানে যা করছে তা কেবল আত্মরক্ষার তাগিদেই করছে।

আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা বৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং শান্তি বজায় রাখার যেকোনো উদ্যোগকে স্বাগত জানান পেজেশকিয়ান। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা হুমকি সত্ত্বেও লাখ লাখ ইরানি জনগণ আন্তর্জাতিক কুদস দিবসের মিছিলে অংশ নিয়েছে।

অন্যদিকে, মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি ইরানের প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। তিনি এই অঞ্চলে যুদ্ধ, অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে মিশরের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারে সামরিক অভিযান শুরু করে। এই হামলায় ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবস্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়, যার ফলে বিপুলসংখ্যক হতাহত এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলের অধিকৃত অঞ্চল এবং এই ঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।