পবিত্র রমজান মাস শেষ পর্যায়ে চলে আসায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি। এরই মধ্যে চলতি বছরের (১৪৪৭ হিজরি) ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে বাংলাদেশে কবে ঈদ হবে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
অস্ট্রেলিয়ান ফাতওয়া কাউন্সিল এবং ন্যাশনাল ইমাম কাউন্সিল এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রমজানের শেষ দিন হবে। সেই হিসেবে ২০ মার্চ (শুক্রবার) শাওয়াল মাসের প্রথম দিন এবং ঈদুল ফিতর পালিত হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং নতুন চাঁদের উদয় ও দৃশ্যমানতা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি ড. ইব্রাহিম আবু মোহাম্মাদ মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে যারা সরাসরি চোখ দিয়ে চাঁদ দেখার (রুইয়াতুল হিলাল) পদ্ধতিতে বিশ্বাসী, তারা সম্ভবত ২১ মার্চ (শনিবার) ঈদ উদযাপন করবেন। এই মতভেদকে সম্মান জানিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে কাউন্সিল।
এদিকে বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর ঈদ উদযাপিত হয়। চলতি বছর বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে আগামী ২০ অথবা ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যদি রমজান মাস ২৯ দিনে শেষ হয়, তবে বাংলাদেশেও ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদ হবে ২১ মার্চ (শনিবার)। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে এবং চাঁদের স্থানাঙ্ক বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এবার বাংলাদেশে রমজান ২৯টি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
তবে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ২৯তম রোজার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে কমিটির বৈঠকের পর জানানো হবে কবে হবে চলতি বছরের ঈদ।
এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার ইমাম কাউন্সিল ও মুসলিম সম্প্রদায় নির্যাতিত ফিলিস্তিন, গাজা, সুদান ও ইরানি জনগণের জন্য বিশেষ দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছে। এই ঈদ যেন বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের জন্য শান্তি ও ন্যায়বিচার বয়ে আনে, সেই প্রার্থনা করা হয়েছে। তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ