কয়েক দফা স্থগিত হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর জকসুর ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা ছিল। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এরপর দিনভর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ফের জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। অন্যদিকে হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জন। নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তিনটি প্যানেল। শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্ট্র সমর্থিত ‘রোকেয়া পর্ষদ’।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে।
বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়, ভোট প্রদানকারী শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন। ভোটদান শেষে শিক্ষার্থীদের ২ ও ৩ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরো উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই শুধু ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবশ্যই আইডি কার্ড প্রদর্শন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেন না।
জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি করে ভোটগ্রহণ বুথ থাকবে। ভোটগ্রহণ শেষে ছয়টি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ভোট গণনা করা হবে।