রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সে (হোম ইকনোমিক্স কলেজ) গভীর রাতে পুলিশি হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে ঘটনার জবাবদিহি দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, এদিন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াসমিন এবং বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন্নেছা বেগমের সঙ্গে উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াসমিনের সরাসরি কথা হয়েছে। তাদের দুজনই নিশ্চিত করেছেন, শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে কোনো ধরনের আক্রমণ বা শারীরিক হেনস্তা করেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও অপপ্রচার ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এ ছাড়া উপাধ্যক্ষসহ উপস্থিত বিভাগীয় প্রধানরা স্বীকার করেছেন, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশের বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না এবং কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ ডাকা হয়নি বলেও জানিয়েছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকবৃন্দ পুলিশ না ডেকে থাকেন, তবে গভীর রাতে একটি স্বনামধন্য নারী শিক্ষাঙ্গনের সীমানায় কার নির্দেশে এবং কার অনুমতি নিয়ে পুরুষ পুলিশ প্রবেশ করল? কাদের ইন্ধনে কোনো ধরনের আইনি এখতিয়ার ও প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া একটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশ করে সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর লাঠিচার্জ, শারীরিক নির্যাতন ও অকথ্য হেনস্তা চালানো হলো?’
তারা আরও বলেন, কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে পুলিশের এমন আক্রমণ শুধু বেআইনি নয়, বরং দেশের যেকোনো নাগরিকের মৌলিক নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত। বিজ্ঞপ্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং ডিএমপি কমিশনারের কাছে স্পষ্ট জবাবদিহি দাবি করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কার আদেশে পুলিশ এমন বর্বরোচিত হামলা চালাল? গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা এবং শারীরিক নির্যাতনের দায়ভার পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে জনসম্মুখে পরিষ্কার করতে হবে।’
ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এবং এর নেপথ্যে থাকা নির্দেশদাতাদের অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধীদের চিহ্নিত না করা পর্যন্ত তাদের ন্যায়সংগত অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।