চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পরই সেখানে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘তালা তালা তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই ভবনের বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা শবনম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মুকুট পরলেই রাজা হওয়া যায় না, স্যার। পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। এত কিছুর পরও সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে, তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশ করে আপনি ঠিক কী বার্তা দিতে চাইলেন, তা বোধগম্য নয়।
তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তির কাছে আমরা দায়িত্ববোধ, সংযম ও সম্মানজনক আচরণ প্রত্যাশা করি। অথচ আপনার এই পদক্ষেপ সেই প্রত্যাশাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পদের মর্যাদা শুধু আসনে বসে নয়, আচরণ ও গ্রহণযোগ্যতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনার এই সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।’
এর আগে, সোমবার সকাল নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান। সেখানে উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন তিনি।
এ সময় তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। যদিও এ সময়ে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করার কথা ছিল। এ কারণে ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বও দিয়েছেন।