Image description

ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের চার দিন পার হলেও এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি কলেজ প্রশাসন। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে ।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পূর্বঘোষণা ও কলেজ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে 'জুলাই অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। শিবিরের দাবি, অনুষ্ঠানের ব্যানার টানানোর সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আব্দুল মালেক আহত হন। এরপর দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, শিবিরের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা সাইন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছাত্রশিবিরের ২০ জন এবং ছাত্রদলের ৭ জন নেতাকর্মী আহত হন।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক পিয়াল হাসান বলেন বলেন, কলেজ প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কি না, সেটি নিশ্চিতভাবে জানি না। তবে আমি স্যারকে বলেছি, বিষয়টি যেহেতু ঘটে গেছে, এখন এটি কীভাবে কী করা যায়, সে বিষয়ে যেন তিনি দেখেন। যেহেতু এটি দুইটি সংগঠনের মধ্যকার সংঘর্ষ। দুই পক্ষেরই কিছু না কিছু প্রমাণ বা এভিডেন্স আছে। তবে সরাসরি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলিনি।

তিনি আরও বলেন, সেদিনের ঘটনার পর আমাদের একজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা ছিল। সেটি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও জানি না। আর কেন্দ্র যদি আমাদের মামলা করতে বলে, তাহলে আমরা মামলা করব।

এছাড়া ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন শেখ বলেন, “কলেজ প্রশাসন পুরোপুরি বিএনপি সরকারের প্রতি আনুগত্যশীল। একজন সরকারি কর্মকর্তা যেভাবে সরকারের আনুগত্য করেন, কলেজ প্রশাসনও ঠিক সেভাবেই আচরণ করছে। চোখের সামনে এত বড় অন্যায় ঘটার পরও তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। তাছাড়া তারা এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। এমনকি আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এ ধরনের ভূমিকার জন্য কলেজ প্রশাসনের প্রতি আমাদের লজ্জা ছাড়া আর কিছুই নেই।

তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য প্রশাসনের কাছে কোনো অভিযোগ বা দাবি জানানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রশাসন কোনো সাড়া দিচ্ছে না।

এবিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানান, তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। কমিটিতে এবার দায়িত্বশীল ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কমিটি গঠনে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করা হচ্ছে, রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। আর কোনো ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত কলেজে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে সব ছাত্রসংগঠনকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি জুলাইয়ের কর্মসূচিতেও নোটিশের মাধ্যমে সব সংগঠনকে সভায় অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। কোনো সংগঠনকে ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্য করে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহজেই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে কোনো ঘটনা যখন দলীয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি ভিন্ন হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়। ফলে প্রশাসনের জন্য সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

ছাত্রসংগঠনের মধ্যে ঐক্য ভবিষ্যতেও বজায় রাখার বিষয়ে অধ্যাপক ইলিয়াস জানান, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটি ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে চায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য সব পক্ষের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। প্রশাসনও এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।