Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অনুমতি না নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছবি তোলায় ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক এক নেতাকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁকে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত দেবাশীষ চৌধুরী (৪৫) ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় খাবার খেতে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার আমন্ত্রণে। একপর্যায়ে তিনি নারীদের ছবি তুলছেন—এমন সন্দেহ করেন কয়েকজন ছাত্রী। পরে তাঁরা তাঁর মুঠোফোনের গ্যালারি দেখানোর অনুরোধ করেন। তবে দেবাশীষ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। পরে ঘটনাস্থলে জাকসুর নেতা, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা, নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে তিনি মুঠোফোনের গ্যালারি দেখান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা হেঁটে যাচ্ছেন—এমন ছবি পাওয়া যায়। এ ছাড়া তাঁর ফোনে বটতলার দোকানের খাবারের ছবিও পাওয়া যায়। এরপর শিক্ষার্থীরা তাঁর গাড়ি থেকে দুই বোতল বিয়ার উদ্ধার করেন এবং তাঁকে নিরাপত্তা শাখায় সোপর্দ করেন।

রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে আসেন এবং দেবাশীষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ভিডিও স্বীকারোক্তি ও মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, তিনি ক্যাম্পাসে এসেছেন, তাই র‍্যান্ডম ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর এক বোনকে পাঠিয়েছেন। এখানে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে তিনি ছবিগুলো তোলেননি। গাড়িতে বিয়ার পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁর লাইসেন্স আছে। তাই তিনি এগুলো সঙ্গে রেখেছিলেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি (দেবাশীষ) ক্যাম্পাসে এসেছিলেন এবং দুজন ছাত্রীর ছবি তুলেছেন। বিষয়টি অন্য ছাত্রীদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাঁর ফোনেও সেটির প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসার পর তিনি নিঃশর্তভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং তিনি ও তাঁর গাড়ি কখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। তাই তাঁকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।