Image description

শেরপুর সদর উপজেলার বাগরাকসা গ্রামের যমজ দুই মেধাবী শিক্ষার্থী তাসনোভা আনজুম তাসমি ও তাবাসসুম আনজুম তানহা। নিজেদের মেধা, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তৈরি করেছেন অনুপ্রেরণার এক অনন্য গল্প। স্কুল, কলেজের পর এবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনও একসঙ্গে শুরু করতে যাচ্ছেন তারা। দুজনই পড়বেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সোমবার (২৫ মে) শেরপুর সরকারি কলেজে ২০২৬ সালে বিভিন্ন মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা হয় যমজ এই দুই বোনের। তাসনোভা আনজুম তাসমি ও তাবাসসুম আনজুম তানহা দুজনই শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। 

যমজ দুই বোন একসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া আলাদাভাবে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই তারা রেখেছেন অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর। এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষাতেই তারা গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাতেও তারা দেখিয়েছেন ঈর্ষণীয় কৃতিত্ব। 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এ তাসনোভা আনজুম তাসমি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) পেয়েছেন ৯৯৮তম স্থান অর্জন করার পর। অন্যদিকে তাবাসসুম আনজুম তানহা ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (এফইটি) পেয়েছেন ২৯২৫তম স্থান অর্জন করে।

যমজ দুই বোন একসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া আলাদাভাবে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এও ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

সাফল্যের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে দুই বোন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি না চাইলে তারা এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতেন না।

তাদের ভাষ্য, এরপর সবচেয়ে বড় অবদান তাদের মায়ের। মা অ্যাডমিশনের জন্য অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি না থাকলে হয়তো এতদূর এগোতে পারতেন না। কলেজের শিক্ষকরা অনেক সাপোর্টিভ ও হেল্পফুল ছিলেন জানিয়ে তারা বলেন, শিক্ষকরা পড়াশোনায় অনেক সহযোগিতা করেছেন।

তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতির কথা তুলে ধরে দুই বোন জানান, ২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাদের বাবা মো. ছানোয়ার হোসেন তরফদার। তিনি পিডিবিতে চাকরি করতেন। বাবার মৃত্যু পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নামালেও থেমে যায়নি তাদের স্বপ্নপূরণের পথচলা।

বাবাকে স্মরণ করে তারা বলেন, আজ বাবা থাকলে হয়তো তাদের এই সাফল্যগুলো দেখে অনেক খুশি হতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি আজ তাদেরমাঝে নেই। তাই এই আনন্দগুলো উপভোগ করে যেতে পারেননি।

দুই বোন বলেন, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যাতে আমরা মানুষের মতো মানুষ হতে পারি, দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারি। একইসঙ্গে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি।

সন্তানদের এমন অর্জনে আবেগাপ্লুত মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘মায়ের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এত দিনের কষ্ট আর দোয়া আজ সার্থক মনে হচ্ছে। ওরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়, এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া। সামনে আরও ভালো করুক—এই দোয়া করি।’ তিন ভাই-বোনের মধ্যে যমজ দুই বোনের এমন সাফল্য পরিবারের জন্য আনন্দ ও গর্বের বলে উল্লেখ করেন তিনি।