রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অ্যাকাডেমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্রে বানান ভুলের ছড়াছড়ি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরিত গুরুত্বপূর্ণ এ নথিতে ২০টি বানান ও ভাষাগত ভুল শনাক্ত করেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এত ভুল হওয়া কখনই কাম্য নয়। এদিকে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বানানগুলো শুদ্ধ করে নেওয়া হবে।
প্রবেশপত্রটিতে যে বানানগুলো ভুল হয়েছে তা হলো—নির্দেশাবলী, সময়সূচী, দেয়া, প্রবেশ পত্র, পরিচয় পত্র, পেন্সিল, বক্স, প্রয়োজন বোধে, আইন শৃঙ্খলা, উপযুক্ত আইনানুগত, নির্দেশাবলী, যন্ত সহকারে, মুখমন্ডল, সংরক্ষন, কোন, ধরণ। একই ভুলশব্দ একাধিক জায়গায় থাকায় পুনরাবৃত্তি এড়াতে সেগুলো একবার উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুলগুলোর শুদ্ধ বানান যথাক্রমে—নির্দেশাবলি, সময়সূচি, দেওয়া, প্রবেশপত্র, পরিচয়পত্র, পেনসিল, বাক্স, প্রয়োজনবোধে, আইন-শৃঙ্খলা, উপযুক্ত অথবা আইনানুগ, নির্দেশাবলি, যত্ন-সহকারে, সংরক্ষণ, মুখমণ্ডল, কোনো, ধরন।
এ ছাড়া সব জায়গায় একবচনে ‘পরীক্ষার্থী’ লেখা হলেও এক জায়গায় লেখা হয়েছে ‘পরীক্ষার্থীগণ’। ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ ও ‘আইনানুগ ব্যবস্থা’ অভিন্ন হলেও পাশাপাশি লেখা আছে, যা বাহুল্যদোষে দুষ্ট। এ ছাড়া প্রমিত বানান ‘আইনানুগ’ ব্যবহার করার কথা থাকলেও লেখা হয়েছে ‘আইনানুগত’। একই নথিতে এক জায়গায় ‘প্রবেশপত্র’ লেখা হলেও অন্য জায়গায় ‘প্রবেশ পত্র’ লেখা হয়েছে। একটি শব্দ একাধিকভাবে শুদ্ধ হলেও একই লেখায় অভিন্ন নিয়মে লেখা সমীচীন হলেও ভিন্ন ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল গাফ্ফার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় ছোট্ট একটি নথিতে ২০টি বানান ভুল হওয়া সত্যিই দুঃখজনক। বাংলা শব্দ ব্যবহারে আমাদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত এগুলো সংশোধন করে নেওয়া।
ভুলের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. হাসনাত কবীর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আসলে আমরা বাঙালি হলেও বাংলা বানানের ক্ষেত্রে যতটুকু সচেতনতা দরকার ছিল, ততটা তৈরি হয়নি। ফলে বানান ভুল হয়েই যাচ্ছে। তবে এতগুলো বানান ভুল হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমি অতি দ্রুত এগুলো সংশোধন করার ব্যবস্থা করব। নতুন প্রবেশপত্রগুলোতে এই ভুলগুলো আর থাকবে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি আজই (২০ মে) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ অফিসকে বিষয়টা অবগত করব যাতে তারা ভুল বানানগুলো শুদ্ধ করে নেন।’