Image description

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নামের পাশে তিনটি ‘লাল তারকা’ চিহ্ন যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি সংস্থাটি বলছে, এর অর্থ হলো প্রতিষ্ঠানটি ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ।

তবে ইউজিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, কোনো তৃতীয় পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ইউজিসিকে ‘ভুল বুঝিয়ে’ এই আদেশ জারি করিয়েছে।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়ার সই করা একটি চিঠিতে কমিশনের ওয়েবসাইটে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির পাশে তিনটি লাল তারকা যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ইউজিসির সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘লাল তারকার মানে হলো ওই ইউনিভার্সিটি নিয়ে কিছু শঙ্কা আছে। এটি একটি সতর্কবার্তা, এর অর্থ হলো প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

ইউজিসির ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের পরিচালকের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে লাল তারকা প্রদর্শনের পেছনে তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) মালিকানাসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ও মামলা চলমান থাকা; ইউজিসি অনুমোদিত আসন সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি এবং আইন অনুযায়ী ১২ বছর পার হওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জমিতে নির্মিত ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা।

বৃহস্পতিবারই নির্দেশনা অনুযায়ী ইউজিসির ওয়েবসাইটে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামের পাশে লাল তারকা চিহ্ন যুক্ত করা হয়।

অবশ্য ইউজিসির ওয়েবসাইটে এমন ‘লাল তারকা’ যুক্ত ইউনিভার্সিটি আরও কয়েকটি রয়েছে। এরমধ্যে এক তারকা, দুই তারকাও রয়েছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। ইউজিসি তালিকভুক্ত ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তিনটি ‘লাল তারকা’ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইইউবি ছাড়া আরও তিনটি রয়েছে। সেগুলো হলো, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি।

ইউজিসির এই পদক্ষেপের পর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) কর্তৃপক্ষ শুক্রবার একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছে। মালিকানা দ্বন্দ্বের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-সংক্রান্ত কোনো দ্বন্দ্ব বা মামলা চলমান নেই।

অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা ও প্রতিবেদন ইউজিসির কাছে বিবেচনার জন্য জমা দিয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত জমি ক্রয়ের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তবে ভবনের ‘ভার্টিকেল এক্সটেনশনের’ (ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ) মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বিস্তৃত পরিসর সৃষ্টি করা হয়েছে, ফলে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের কাঙ্ক্ষিত মাত্রা বজায় রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টির যেসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর সমাধান হয়ে থাকলে ইউজিসি লাল তারকা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।’