অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কে নাম জড়িয়েছে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির। বিষয়টি নিয়ে দুই দিন পর মুখ খুলেছেন তিনি। এই অভিনেত্রীর দাবি, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচার।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক পোস্টে ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাটের ৪০টিরও বেশি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন তিথি।
স্ক্রিনশট প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ভেবেছিলাম, এগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দেব, সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে, আর চুপ থাকা গেল না। ইতোমধ্যেই কিছু জায়গায় আমি অডিও বক্তব্য দিয়েছি।
তিনি বলেন, নিজেরা খুব সাধু সাজতেছেন, আপনারা কি সেটার আমলনামাও আছে। শুধু আমার কাছে না। অনেকের কাছেই আছে। যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলেও যেন সেটা সামনে আসে।
তিথি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। সদ্য প্রয়াত ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল এবং নিয়মিত ও স্বাভাবিক কথাবার্তা হতো। পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও মানসিক অবসাদের বিষয়েও ইকরা বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগও সরাসরি অস্বীকার করেন তিথি। তিনি লেখেন, কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে, সে আমেরিকা চলে যাবে। তখন আমি বরাবরই বলেছি, ‘চাইলেও যেতে পারবে না, তুমি আলভীকে ভালোবাসো, তুমি তার কুইন।’ তাহলে আত্মহত্যার জন্য আমি কিভাবে উস্কানি দেব? যাই বলেন, এটা বলতে পারেন না যে আমি ওকে নিজের জীবন নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি। সে তার নিজের জীবন নিজে নিয়েছে, সন্তানটার কথা একটাবার মা হয়ে ভাবলে আজকে এই জীবনটা থাকত।
পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিথি। তার দাবি, ইকরা নিজেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক কষ্টের কথা তাকে লিখেছিলেন।
তিনি লেখেন, একটা মেয়ে যতই হোক, নিজের মা-বাবা নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি তাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিল। ওর মনে হতো, পরিবার তাকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে। ২০১৮ সালে একবার আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সে বাবাকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল, কিন্তু সমর্থন পায়নি। সেখান থেকেই ক্ষোভ জন্মায়, যা পরে আর প্রকাশ করেনি।
পোস্টের শেষ দিকে তিথি লেখেন, যদি তার কিছু হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে। আল্লাহ ইকরাকে ভালো রাখুক, শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিজিকের জন্য এত দোয়া করুক, যাতে ওর জীবনটা সুন্দর হয়।