Image description

দর্শকনন্দিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে মেঘালয়ছোঁয়া প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সীমান্তবর্তী জেলা নকশিকাঁথার জামালপুরে। নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই শিকড়ের সন্ধানে স্টুডিওর চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে দেশের নানা প্রান্তে গিয়ে ধারণ করা হচ্ছে এ অনুষ্ঠানটি। লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, সমৃদ্ধ পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা বৈচিত্র্যময় গৌরবগাথা তুলে ধরাই ইত্যাদি’র মূল লক্ষ্য।

এবারের পর্বের মূল মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সবুজ বনানী ও নৈসর্গিক লেক পরিবেষ্টিত ‘লাউচাপড়া অবসর বিনোদন কেন্দ্রের উন্মুক্ত চত্বরে’। মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা লাউচাপড়ার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য তুলে ধরতে সাধারণত রাতের আলোকোজ্জ্বল মঞ্চে অনুষ্ঠান ধারণ করা হলেও এবার ব্যতিক্রম হিসেবে দিনের আলোতেই ধারণ কাজ শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

ধারণকে কেন্দ্র করে পুরো জামালপুর জেলাজুড়েই ছিল উৎসবের আবহ। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শুধু বকশীগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে হাজারো মানুষ ভালোবাসার টানে ছুটে আসেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় অনেকেই গাছে উঠে কিংবা পাহাড়ের চূড়ায় বসে প্রিয় অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

এবারের পর্বে থাকছে দুটি বিশেষ গান। একটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন পান্থ কানাই ও তসিবা বেগম, যাদের টেলিভিশন পর্দায় প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ইত্যাদির মাধ্যমেই। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। অন্যটি জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত, যা দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছেন জামালপুরেরই সন্তান মিজান মাহমুদ রাজীব ও সিঁথি সাহা। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের নৃত্য পরিচালনায় স্থানীয় বাঙালি ও গারো শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা পুরো মঞ্চকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

নিয়মিত আয়োজন দর্শকপর্বে জামালপুরকে কেন্দ্র করে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চারজন দর্শক নির্বাচিত হন। তারা জামালপুরের চারজন স্মরণীয়-বরণীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কালজয়ী চারটি গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করেন।

প্রতিবেদন অংশে থাকছে জামালপুরের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রতীক ‘নকশিকাঁথা’ এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘মিল্লি বা পিঠালি’র ওপর বিশেষ প্রতিবেদন। সেই সাথে থাকছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রত্নসম্পদ এবং দেশের অন্যতম প্রাচীন ‘তুলসীপুর ঘোড়ার হাট’-এর ওপর একটি ভিন্নধর্মী চিত্রায়ন। এছাড়া নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবার ও বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে মানবিক প্রতিবেদনসহ জামালপুরের চারজন কালজয়ী গুণী ব্যক্তিত্বের অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে স্বাবলম্বী হওয়া ফেরদৌস হাসান বাপ্পী ও ওসনাই খাতুন দম্পতির অদম্য জীবনসংগ্রাম নিয়ে থাকছে অনুপ্রেরণাদায়ক মানবিক গল্প।

বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা চীনের নয়নাভিরাম ‘সুঝৌ’ সিটির ওপর চিত্রায়ন।

নিয়মিত নাট্যাংশ ও চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির আলাপন। সামাজিক অসংগতি নির্ভর নাট্যাংশে তুলে ধরা হয়েছে—স্বল্প প্রাণ ভাইরাল গান, ডিজিটাল ট্রলের ট্রমা, ভক্তের অন্ধ ভক্তি, ফাঁপা ফুর্তির ফূর্তি, সম্মান দিলে সম্মান মিলে, অনলাইন সোলজার, তৈল বিদ্যা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, লাইভ টকের ঝুঁকি ও পরজীবী মানুষের মতো সমসাময়িক নানা বিষয়।

নাট্যাংশে অভিনয় করেছেন সোলায়মান খোকা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, আব্দুল আজিজ, জিল্লুর রহমান, আমিন আজাদ, আনন্দ খালেদ, মুকিত জাকারিয়া, সুমন পাটোয়ারী, সাইদুর রহমান পাভেল, আশরাফুল আলম সোহাগ, এমএনইউ রাজু, আনোয়ার শাহী, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, সুজাত শিমুল, আবু হেনা রনি, সুর্বনা মজুমদার, সাবরিনা নিসা, নূরে আলম নয়ন, সাজ্জাদ সাজু, রাজিব সালেহীন, নিপু, মিরাজ, নজরুল ইসলাম, আনোয়ারুল আলম সজল, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরো অনেকে।

ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী ছিলেন রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন।

কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড স্পন্সরকৃত ও ফাগুন অডিও ভিশন নির্মিত ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। অনুষ্ঠানটি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত হবে।