সোনার তৈরি গহনা মেয়েদের সাজসজ্জায় বহুল ব্যবহৃত এবং পছন্দের শীর্ষে থাকে সব সময়। বয়স, সময় কিংবা হাল ফ্যাশনের যুগেও সোনার প্রতি নারীর আকর্ষণ যেন কমে না বরং সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদাও বাড়ছে। তবে কেন মেয়েরা সোনা এতবেশি পছন্দ করে সেটা নিয়ে রয়েছে নানান আলোচনা।
যারা বছরের পর বছর ছোট ছোট সঞ্চয় করে সোনার গহনা কিনে রেখেছেন কিংবা বিয়ের সময় পরিবারের কাছ থেকে প্রচুর সোনার গহনা উপহার পেয়েছেন, বর্তমান বাজারে তাদের সম্পদের মূল্যও বেড়েছে। কারণ ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ভরি প্রতি আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি।
সোনার বর্তমান বাজারমূল্য
সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট সোনার গহনা ও রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে দাম কার্যকর। সে হিসাবে দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনা ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকার ওপরে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার গহনার দাম প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
বিশ্বে কোথা থেকে আসে এতবেশি সোনা?
সোনা উৎপাদনের শীর্ষে রয়েছে চীন। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোনা উৎপাদনকারী এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে এখান থেকে। রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রও শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। আফ্রিকার ঘানা, মালি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশও বৈশ্বিক সোনা সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নারীদের সোনার প্রতি এতবেশি আকর্ষণ কেন?
কেউ বলেন, সোনা নারীর সৌন্দর্য বাড়ায়। কারও কাছে এটি ভবিষ্যতের নিরাপদ সম্পদ। আবার কারও কাছে সোনা বংশপরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্য ও আবেগের সংমিশ্রণ। বলা যায় সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মর্যাদা এবং আর্থিক নিশ্চয়তা মূলত সোনার প্রতি নারীদের আকর্ষণের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে কয়েকটি।
নারীর সৌন্দর্যের সঙ্গে সোনার সম্পর্ক
সোনার গহনার সবচেয়ে আকর্ষণ হলো এটির উজ্জ্বলতা ও দীপ্তি। পোশাক, ত্বকের রং কিংবা সাজের ধরন অনুযায়ী সোনার গহনা পরে থাকেন নারীরা। বিয়ে, উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজনে সোনার গহনার ব্যবহার এখনও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আমাদের দেশে বিয়েতে সোনা ছাড়া বলতে গেলে চলেই না।
সোনা শুধু গহনার জন্য নয়, এক ধরনের সঞ্চয়ও
নারীদের কাছে সোনার আরেকটি বড় আকর্ষণ আর্থিক মূল্য। ব্যাংক হিসাব বা অন্য অনেক সম্পদের মতো সোনা চোখের সামনে রাখা যায় এবং প্রয়োজনে বিক্রি কিংবা বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ করা যায়। বিশেষ করে পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যয় কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সংকটে সোনার গহনা তাৎক্ষণিক অর্থের উৎস হিসেবে কাজে লাগে। ফলে অনেক নারী সোনাকে শুধু অলঙ্কার হিসেবে নয়, সঞ্চয়ের একটি মাধ্যম হিসেবেও দেখেন। সোনার প্রতি নারীদের আকর্ষণকে শুধু সৌন্দর্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
বিয়ে ও পারিবারিক ঐতিহ্যে সোনার গহনা জরুরি
বিয়ের সঙ্গে সোনার গহনার সম্পর্ক বহু পুরোনো। বিয়েতে কনেকে সোনার গহনা উপহার দেওয়া, পরিবারের পুরোনো গহনা নতুন প্রজন্মকে দেওয়া কিংবা মায়ের গহনা মেয়ের বিয়েতে ব্যবহার করা এসব এখনও প্রচলিত রীতি-নীতি। ফলে একটি সোনার গহনার সঙ্গে শুধু এর বাজারমূল্য নয়, জড়িয়ে থাকে পারিবারিক স্মৃতি ও আবেগ।
সামাজিক মর্যাদার প্রতীক সোনার গহনা
একসময় সোনার পরিমাণকে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হতো। এখন সেই ধারণা কিছুটা বদলালেও সোনা এখনো অনেকের কাছে আভিজাত্য ও সম্পদের প্রতীক হয়ে আছে। বিশেষ অনুষ্ঠান বা বিয়েতে ভারী সোনার গহনা পরার প্রবণতা এখনও লক্ষ্য করা যায়।
টেকসই হওয়া সোনার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য
সোনার গহনায় সহজে মরিচা ধরে না বা ক্ষয় হয় না। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন সোনার গহনার সৌন্দর্য ও মূল্য ধরে রাখা সম্ভব। ফলে বলা যায় শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, এখন অন্যান্য কারণেও নারীদের পছন্দের শীর্ষে সোনার গহনা।
সূত্র: বাজুস, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল