Image description

ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে এবার সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী মুখ খুললেন খল অভিনেতা ডিপজল, ডলি জহুর ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সভাপতি আরেক খল অভিনেতা শিবা শানুকে নিয়ে।

১০ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক। তিনি সালমান শাহ হত্যার আসামি। শোনা যায়, তাঁকে ধরিয়ে দিতে সহায়তা করেন আরেক খল অভিনেতা ডিপজল।

ডিপজল
ডিপজলছবি: ফেসবুক

ডিপজলের সঙ্গে নীলা চৌধুরীর কথা না হলেও তিনি বললেন, ‘ডিপজলকেও ডাকা দরকার।’ কেন ডাকা দরকার? এমন প্রশ্ন করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মামলায় ডিপজলকে সাক্ষীর জন্য ডাকা দরকার। কারণ, সে ফিল্মের মানুষ অনেক কিছু জানে বলেই তো ধরিয়ে দিয়েছে। সে (ডন) যে দেশ ছাড়ছে, সেটা তো সে জানত। অপরাধী মনে না করলে তো সে ধরিয়ে দিত না।’

এই সময় নীলা চৌধুরী আরও বলেন, ‘ইমনকে (সালমান শাহ) যখন হত্যা করা হয়, তখন তো ডিপজলরা নিয়মিত কাজ করছিলেন। সিনেমার অনেক ঘটনাই তো তাদের জানা ছিল। সে তো আগের পরের অনেক কিছুই জানতে পারে। যে কারণে ভালো–মন্দ যা–ই হোক সে কিছু জানতে পারে। আমার প্রশ্ন, যদি কিছু জেনে থাকে, তাহলে সেটা সাক্ষী হয়ে কথা বলুক। এটা তো মামলার জন্য সহায়তা করা হয়। যে কারণে আমি মনে করি তাকে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করার দরকার।’ এ সময় ডিপজলকে ধন্যবাদও দেন নীলা চৌধুরী।

ডলি জহুর
ডলি জহুরছবি: ফেসবুক থেকে

সালমান শাহর মা মনে করেন, এ মামলায় আরও অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। যারা এই ঘটনা সম্পর্কে কাছ থেকে অনেক কিছু জানে। তিনি বলেন, ‘যেদিন ইমনকে হত্যা করা হয়, সেদিন ডলি জহুরও তো ঘটনা সম্পর্কে অনেক কিছু জানত। ওই দিন কী কী হয়েছিল, সেই সম্পর্কে বিভিন্ন সময় ডলি জহুর গণমাধ্যমে কথা বলেছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। সামিরার সঙ্গে তার কতটা যোগাযোগ ছিল, বের করা দরকার। ডলি জহুর, বাদল খন্দকার—এরা অনেক কিছু জানে। তাদের সত্যটা প্রকাশ করা। প্রয়োজন মনে করলে এদের মধ্যেও কাউকে আমি আসামিও করতে পারি। ডলি জহুর আসামী হতে পারে। এদের অনেকেই সালমান শাহকে বিরক্ত করেছে।’

এ ছাড়া গত মাসে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন খল অভিনেতা ডন। ‘একজন হত্যা মামলার আসামি কীভাবে এফডিসিতে এসে ভোট দেয়। তাকে অনেকেই সহায়তা করছে। এদের ধরতে হবে,’ বলেন নীলা।

খল অভিনেতা শিবা শানু
খল অভিনেতা শিবা শানুছবি: ফেসবুক থেকে

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘শিবা শানুরা ডনকে বরণ করে নিয়েছিল। এখানে ডনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কারা? যেখানে ডনকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া উচিত ছিল, সেখানে এফডিসির নির্বাচনে ডনকে বরণ করে নেওয়াটা বোঝায় এদের ছত্রচ্ছায়ায় ডন থাকত।’

এদিকে ডনকে গ্রেপ্তারের পর সালমান শাহর মামা কুমকুমকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন নীলা চৌধুরী। সালমান শাহর হত্যার বিচারের দাবিতে সালমান শাহর ভক্তরা এক হয়েছিলেন। সেখানে হুমকির কথা জানান কুমকুম।

নীলা চৌধুরী বলেন, ‘আমার ভাইকে তো বহু দিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেটা এখন আবার বাড়ছে। অন্যদিকে সালমানের ভক্তদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেগুলোর স্ক্রিনশট আমার কাছে আছে। এসব হুমকি দিয়ে কোনো কিছু থামানো যাবে না। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত এই হত্যার বিচার করতে হবে।’

সালমান শাহ
সালমান শাহফেসবুক থেকে

এদিকে গত শনিবার সালমান শাহ ভক্ত ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মানববন্ধন করা হয়েছে। ভক্তদের দাবি দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করা। এ দাবি আদায়ের জন্য ৬৪ জেলার ভক্তরা প্রেসক্লাবের সামনে এক হয়েছিলেন।

এই উদ্যোগের অন্যতম সমন্বয়ক সাজিদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের চাওয়া ডনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তাহলে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ছাড়া হত্যা মামলার আসামি সামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তাকেসহ অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাজা দিতে হবে। তা না হলে আমরা শিগগির দেশের ৬৪ জেলায় সালমান শাহ ভক্তরা আবার মানববন্ধন করব। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে।’

সালমান শাহ ভক্তদের মানববন্ধন
সালমান শাহ ভক্তদের মানববন্ধনছবি: সাজিদ কামালের সৌজন্যে

সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালতে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।