ডিম পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। এটি শুধু শরীরে প্রোটিনের জোগানই দেয় না, বরং ভিটামিন সি ছাড়া প্রায় সব প্রয়োজনীয় ভিটামিন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পাওয়া যায়।
এছাড়া ডিম বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টেরও ভালো উৎস। সহজলভ্য এবং তুলনামূলক কম দামের হওয়ায় প্রায় সব পরিবারের খাদ্যতালিকাতেই ডিমের রেখে থাকেন।
একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৭৪-৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি, ৮ গ্রাম প্রোটিন এবং ৫.২ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন বি১২, ফসফরাস, জিংক, লুটেইন ও জিয়াজেনথিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। লুটেইন ও জিয়াজেনথিন চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, ফসফরাস হাড় ও দাঁতের গঠনে ভূমিকা রাখে এবং জিংক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে।
ডিম দিয়ে তৈরি পোচ, অমলেট কিংবা সিদ্ধ ডিম প্রায় সবাই পছন্দ করে। তবে অনেক সময় ডিম ভাঙার পর কুসুমে ছোট লাল রক্তের দাগ দেখা যায়। তখন অনেকেই ভাবেন, এমন ডিম খাওয়া কি নিরাপদ?
কেন কুসুমে রক্তের দাগ দেখা যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের কুসুমে ছোট লাল বা বাদামি দাগ দেখা যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ডিম তৈরির সময় মুরগির ডিম্বাশয় বা কুসুমের চারপাশের কোনো ক্ষুদ্র কৈশিক রক্তনালি ফেটে যাওয়া। সেই সামান্য রক্তই পরে কুসুমের সঙ্গে মিশে যায়।
এটি কোনো রোগের লক্ষণ নয় এবং এর অর্থ এই নয় যে ডিমটি নিষিক্ত। অনেকেই ভুল করে মনে করেন, রক্তের দাগ মানেই বাচ্চা হওয়ার ডিম। বাস্তবে এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
কখনো কখনো ডিম্বনালি দিয়ে ডিম যাওয়ার সময় অনেক সময়ই তাতে মাংসের টুকরো বা রক্ত মিশে যায়। এতে শরীরে ক্ষতি করার মতো কিছু থাকে না। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের কুসুমে লাল বিন্দু বা রক্তের দাগ থাকলে তা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়, যদি তা ভালো করে রান্না করা হয়।
যদি রক্তের দাগ দেখে অস্বস্তি লাগে, তাহলে একটি চামচের সাহায্যে সেই অংশটি তুলে ফেলে দিয়ে বাকি ডিম রান্না করতে পারেন। তবে ডিম অবশ্যই সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা ভালোভাবে ভেজে খেতে হবে।
কখন ডিম খাওয়া উচিত নয়?
তবে সব ধরনের রঙের পরিবর্তন কিন্তু নিরাপদ নয়। যদি ডিমের সাদা অংশ (অ্যালবুমিন) গোলাপি, সবুজ বা লালচে হয়ে যায়, তাহলে সেটি খাওয়া উচিত নয়।
এ ধরনের পরিবর্তন অনেক সময় সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া ডিমের ভেতরে এমন কিছু রঞ্জক পদার্থ তৈরি করে, যা ডিমের রং বদলে দেয় এবং খাদ্য হিসেবে অনিরাপদ করে তোলে। ডিম ভাঙার পর যদি দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং বা পিচ্ছিল ভাব দেখা যায়, তাহলে সেটি অবশ্যই ফেলে দেওয়া উচিত।
যে কারণে খয়েরি ডিমে রক্তের দাগ বেশি দেখা যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা খোলার ডিমের তুলনায় খয়েরি খোলার ডিমে রক্তের দাগ কিছুটা বেশি দেখা যেতে পারে। এর একটি কারণ হলো খয়েরি খোলার রঙের কারণে পরীক্ষার সময় ছোট দাগ অনেক সময় সহজে চোখে পড়ে না। ফলে এমন কিছু ডিম বাজারে চলে আসতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে খয়েরি ডিমের মান খারাপ। সাদা ও খয়েরি, দুই ধরনের ডিমের পুষ্টিগুণ প্রায় একই।
সূত্র: হেলথলাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া