গ্রীষ্ম আসতেই শুরু হয়েছে আমের মৌসুম। সুস্বাদু ও রসালো এই ফল সবারই প্রিয়। আর এ কারণে সবাই ইচ্ছেমতো আম খান। আবার আম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, শর্করা, আমিষ, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারটিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি থাকে। তাই, কাঁচা আমের তুলনায় আঁশযুক্ত পাকা আম শরীরের জন্য বেশি ভালো।
এছাড়া, আমের বিশেষ কিছু এনজাইম খাদ্য উপাদানের প্রোটিনকে ভালোভাবে ভেঙে ফেলতে কাজ করে। যা সামগ্রিকভাবে পরিপাক ক্রিয়ায় অবদান রাখে।
আমে থাকা ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও অন্যান্য ২৫ ধরনের ক্যারোটেনয়েডস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে, আমে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে।
তবে কারও কারও জন্য আম হতে পারে বিপজ্জনক। কারণ এই ফলেরও আছে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া। অতিরিক্ত আম খাওয়া স্বাস্থ্যে উপকারের বদলে ক্ষতি করে। আম পুষ্টিকর ফল হলেও, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের আম খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত অথবা আম খাওয়া একদম এড়িয়ে চলা উচিত।
স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন
প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ৭৯ থেকে ৮২ গ্রাম ক্যালরি পাওয়া যায়। এছাড়া, একটি আমের ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ পানি থাকে। তবে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকে। আমে কোলেস্টেরল কম থাকলেও এতে শর্করা বেশি থাকায় এবং অন্যান্য খাবারের বাড়তি ক্যালরির জন্য এটি পরবর্তীতে আমাদের শরীরে গিয়ে শর্করা ই ফ্যাট হিসেবে জমা হয়, যা ওজন বাড়ায়। তাই যারা ওজন কমানোর ডায়েট করছেন, তাদের আম পরিমাপ করে খাওয়া উচিত।
ডায়াবেটিস
আম বেশি খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা হবে। তাই যত এড়িয়ে চলবে, তত ভালো। কারণ আমে ফ্রুকটোজের পরিমাণ অনেক বেশি। যে কারণে রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আম। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া আম খাওয়া বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
হজমের সমস্যা
আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং ফ্রুক্টোজ থাকে। যাদের পরিপাকতন্ত্র দুর্বল বা আইবিএসের সমস্যা আছে, তারা বেশি আম খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে ব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার সমস্যায় ভুগতে পারেন। তাই নিয়মিতই যদি ডায়েটে আম থাকে তবে তা গ্যাসটাইট্রিসের সমস্যাকে উসকে দিতে পারে, যা হজমশক্তিকে দুর্বল করে তোলে।
আর্থ্রাইটিস
আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা আরও বাড়িয়ে তোলে আম। তাই এ ধরনের রোগীদের আম খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিত।
অ্যালার্জি ও অ্যাজমার সমস্যা
এ ছাড়া আম খেলে চোখ জ্বালা, হাঁচি, পেটে ব্যথা, ঠান্ডা লেগে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছেন তাদের আম খাওয়ায় সতর্ক থাকতে হবে। সতর্ক না হলেই সুস্বাদু এ আমই হয়ে উঠবে বিপদের কারণ।