Image description

গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুঁ মারলেই যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চোখে পড়ছে, তা হলো মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘এটা আমাদেরই গল্প’। পারিবারিক গল্পের এই ধারাবাহিকটি প্রচার শুরুর পর থেকেই আলোচনায়, কিন্তু এর ৪৯ ও ৫০তম পর্ব প্রচারের পর থেকে তা নিয়ে যেন রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়ে সোশ্যালে। 

সমাপনী লগ্নে ধারাবাহিকটি যেমন দর্শকদের মন ভারী করছে, তেমনি প্রশংসায়ও ভাসাচ্ছে ধারাবাহিকটির পুরো টিমকে। বিশেষ করে ধারাবাহিকটির ফাহাদ চরিত্রে অভিনয় করা ইরফান সাজ্জাদ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

নাটকটিতে অভিনয়, দর্শক সাড়া এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর।  

 

প্রচারের পর থেকেই নাটকটি নিয়ে আলোচনা লক্ষ করা গেছে, তবে গত দুই পর্ব প্রচারের পর তা নিয়ে দর্শকদের এত বেশি মাতামাতি, কিভাবে দেখছেন?

পারিবারিক গল্পের দর্শক সবসময়ই ছিল। ভালো গল্প, নির্মাণ হলে সেটা দর্শক পছন্দ করেন। কিন্তু এই কাজটা যে সবার এত বেশি পছন্দ হবে এবং এটা নিয়ে এত বেশি মাতামাতি হবে; এরকমটা কখনো কল্পনাও করিনি আমরা কেউ।

সাধারণত ঈদ কিংবা উৎসবে নাটক নিয়ে অনেক আলোচনা দেখা যায়, কিন্তু কোনো উৎসবের বাইরে কোনো নাটক নিয়ে এত আলোচনা দেখা যায় না। আমি যদি ভুল না করি, ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের পর পত্র-পত্রিকা থেকে শুরু করে সবখানে এত এত আলোচনা আর দেখিনি। সবশেষ দেখেছি ‘বড় ছেলে’ নাটক নিয়ে, এরপর আর কোনো কাজ নিয়ে এরকমটা দেখিনি।

 

May be an image of one or more people

শুধু নাটকই নয়, আপনার চরিত্রটি নিয়েও অনেক কথা হচ্ছে, লেখালেখি হচ্ছে।

বিষয়টি কেমন উপভোগ করছেন?

 

সত্যি বলতে, আমি এখনো স্বপ্নের মধ্যেই আছি। ১২ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক চরিত্রেই অভিনয় করেছি, চেয়েছি দর্শক কাজগুলোকে পছন্দ করুক। আমার অনেক কাজই দর্শক পছন্দ করেছেন, ভালোবাসা জানিয়েছেন কিন্তু এই ফাহাদ চরিত্রের জন্য যা পেয়েছি, সেটা অভাবনীয়। আমার কল্পনারও বাইরে। এত বেশি সাড়া আমি আগে কখনো পাইনি।

গত দুই-তিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে দর্শকের এত মাতামাতি, সেটা হোক প্রশংসা কিংবা সমালোচনা; পুরোটাই আমার কাছে আনরিয়েল মনে হচ্ছে। দর্শকদের এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ করার ভাষা জানা নেই আমার। আগে যারা আমার কাজ দেখেছেন, এমনকি যারা দেখেননি তারাও কাজটি দেখে বলছেন ‘ইরফান, দুর্দান্ত একজন অভিনেতা’। একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!

 

ধারাবাহিকটি শুরু করার সময় কি কখনো মনে হয়েছিল যে, কাজটি এতটা সাড়া পেতে পারে?

একদমই না। রাজ ভাই যখন প্রায় ৮-১০ মাস আগে আমাকে গল্পটি শোনায়, তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ইরফান, এই প্রজেক্টটা যদি ওয়ার্ক না করে তাহলে আমার অনেক বড় লস হয়ে যাবে’। শুরুর দিকে শুধু এতটুকুই মনে হয়েছিল যে, পারিবারিক গল্পের দর্শক আছে, তারা আমাদের এই গল্পটাকে পছন্দ করবেন। কিন্তু এটা যে এরকম ম্যাসিভ আকারে ব্লাস্ট করবে, সেটা আমরা কেউই ভাবিনি। ৪৯তম পর্বে আমার একটি দৃশ্য নিয়ে আলোচনার পর ৫০তম পর্ব দর্শকদের এতটা কানেক্ট করেছে যে রীতিমতো কাঁদতে শুরু করে দিয়েছে।

No photo description available.

দর্শকদের পাশাপাশি নাটকটি নিয়ে অনেক তারকাশিল্পী-নির্মাতারাও সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছেন, প্রশংসা করছেন...

হ্যাঁ, অনেকেই পোস্ট দিয়েছেন; আবার অনেকে ফোন করে কিংবা মেসেজ দিয়ে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, প্রশংসা করছেন। তারিন জাহান আপু (অভিনেত্রী), ওয়াহিদ আনাম ভাই (নির্মাতা), শিহাব শাহীন ভাই (নির্মাতা), অপূর্ব ভাই (অভিনেতা), ইন্তেখাব দিনার ভাই (অভিনেতা), মেহজাবীন চৌধুরী (অভিনেত্রী), সাদিয়া আয়মানসহ (অভিনেত্রী) আরো অনেকেই প্রশংসা করেছেন। সহকর্মীদের কাছ থেকে এই অ্যাপ্রিসিয়েশনটা আমাদের আসলেই অনেক বেশি উৎসাহ দিয়েছে। 

তাদের কাছ থেকে কী বার্তা পেলেন?

অনেকে তো ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাছাড়া অপূর্ব ভাই ফোন দিয়ে আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলেন, সেটা আমি নিজে লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেছি। উনার কাছ থেকে মন্তব্য পেয়ে নিজের প্রতি কনফিডেন্সটা আরো অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তাছাড়া দিনার ভাই বললেন, ‘ইরফান, ইনক্রেডিবল পারফরম্যান্স’। মোস্তফা কামাল রাজ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘ইরফান, তোমার যা পাওয়ার পেয়ে গেছো। তোমার জীবনের সেরা অভিনয় করে ফেলেছো। তোমার আর অভিনয় করার দরকার নেই, অভিনয় ছেড়ে দাও’।

No photo description available.

নিজের দায়বদ্ধতা কতটুকু বেড়েছে বলে মনে করছেন?

আমি তো এমনিতেও কম কাজ করি। এই নাটকটা করতে গিয়ে অনেক কাজই ছাড়তে হয়েছে। তবে এখন আর সেটার জন্য কোনো আফসোস নেই। দর্শকরা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন সেটা ধরে রাখতে চাই। সেজন্য কাজের বিষয়ে আরো অনেক বেশি চুজি হবো। 

এই মুহূর্তে কী নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন?

সামনেই ঈদুল আজহা। ঈদের জন্য বেশ কয়েকটা নাটক করা হবে। এ ছাড়া আপাতত আর কিছুই না।