Image description

টানা বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীতে মুরগির বাজারে উত্তাপ আরও বেড়েছে। এলাকাভেদে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সাদা কক ও লাল লেয়ার মুরগির দামও চড়া। ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে সরবরাহ কম, তার ওপর বৃষ্টিপাত—এ দুই কারণে মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি রয়েছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাজার গত সপ্তাহ থেকেই চড়া রয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির কেজি গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, যা এ সপ্তাহে আরেক দফা বেড়ে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতেই এখন বেশি দামে তাদের কিনতে হচ্ছে। কদমতলী সাদ্দাম মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা মো. সোহাগ মিয়া ও মালিবাগ বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. ফারুক হোসেন জানান, বৃষ্টির আগে গরমের কারণে অনেক খামারি খামারে কম মুরগি তুলেছেন। এতে বাজারে সরবরাহ কম ছিল। এখন টানা বৃষ্টিতে বাজারে সরবরাহ আরও কমেছে। অথচ শুক্রবার ছুটির দিনে চাহিদা বেশি। তাই অনেক পাইকারি বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তারা জানান, দাম বাড়লেও ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি সব দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু পাইকারিতে দাম বেশি থাকায় অনেক খুচরা বিক্রেতা সাদা কক বা লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি করছেন না।

কাপ্তানবাজারের পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা আগের মতোই জানান, খামারে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ছোট খামারগুলোতে মুরগি কমেছে। এতে সরবরাহ আগের চেয়ে অনেকটা কম। তার ওপর এখন বৃষ্টির প্রভাব। শুক্রবারের বাজারকে কেন্দ্র করে সাধারণত যে পরিমাণ মুরগি রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রবেশ করে সে পরিমাণে আসছে না। তাই দাম বাড়তি রয়েছে।

কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. রুহুল আমিন বলেন, এ বাজারে অনেক দোকানে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা কেজিতেও ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে। তবে, বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে অনেক পাইকারি বিক্রেতা দাম বেশি রাখছেন এখন। যেসব খুচরা বিক্রেতা বেশি দামে কিনেছেন তারা বেশি দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে বৃষ্টির প্রভাবে কোথাও কোথাও ডিমের দামও বেড়েছে। কদমতলী ও মালিবাগ এলাকার খুচরা বিক্রেতারা জানান, প্রতি ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা দাম বেড়ে ফার্মের বাদামি ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। ডিম বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টির দেখা দিলেই অনেক সরবরাহকারী ডিম সরবরাহ কমিয়ে দেন। আবার দামও একটু বাড়তি রাখেন। এর প্রভাব খুচরা দামেও পড়ে।

এদিকে বৃষ্টি প্রভাবে সবজির দাম না বাড়লেও মাছের বাজারে দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। গতকাল চিংড়ির জাত ও আকার ভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেছে। দেড় কেজি আকারের রুইয়ের কেজি গতকাল ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা। মাঝারি আকারের শোল মাছের কেজি ৮০০ টাকা হয়েছে। বেলে মাছ আকারভেদে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে মিলেছে ১০০ টাকা কমে। তেলাপিয়া মাছের দামও কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজিতে। পাবদা মাছের কেজিও ৪০০ টাকা ছাড়িয়েছে।

কদমতলী এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সোয়েব আহমেদ বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে এসে মাছ-মাংস কেনার উপায় নেই। মুরগির দাম কেবল বাড়ছেই। ঈদের পর ১৬০ টাকা কেজিতে কেনা ব্রয়লার এখন ২০০ টাকা হয়েছে। মাছের বাজারে চিংড়ি কিনতে গিয়ে দেখি দেশি কুচো চিংড়ির কেজি চাইছে হাজার টাকা। ইলিশের দামেও আগুন। ছোট ইলিশের কেজি ১১০০ টাকা চাইছে। রুইয়ের কেজি ৩৫০ টাকা। এত দাম হলে কিনব কি!’

এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দাম অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। এর মধ্যে পটোল, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা অনেকটা কমে পাওয়া যাচ্ছে। ঢ্যাঁড়সের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ঝিঙার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম এখনো বাড়তি, প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর করলার কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পেঁপের দাম কমে ৪০ টাকা কেজি হয়েছে। কচুর লতির কেজি ৭০ টাকা। এ ছাড়া শসার কেজি প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা ও টমেটো ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা। প্রতিটি ফুলকপি ৬০ টাকা, চালকুমড়া ৬০ টাকা ও লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টি হলে সাধারণত সবজির দাম বাড়ে। তবে বাজার এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। কারণ পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো। তা ছাড়া স্থানীয় হাট পর্যায়েও দাম কিছুটা কম এখন। তাই খুচরায় ঢ্যাঁড়স, পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, পেঁপের মতো কিছু সবজির দাম আগের চেয়ে কম রয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে তা দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান তারা।

দেশি পেঁয়াজ আগের মতোই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশেষ করে সরু ও মাঝারি জাতের চালের দাম কেজিতে অন্তত ২ টাকা বেড়েছে।