রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে ক্রেতা কম ও পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় গরুর দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। এতে লোকসানে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন অনেক খামারি ও ব্যাপারী। অনেকে আবার অবিক্রিত পশু ট্রাকে করে বাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হাট ঘুরে দেখা যায়, একের পর এক ট্রাকে গরু তুলছেন বিক্রেতারা। কেউ কেউ পরিবহণ সংকটে হাটজুড়ে ট্রাক খুঁজতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি ৫০টি গরু এনেও বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১৮টি। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, ৪০টি গরুর মধ্যে ২০টি বিক্রি হয়নি। যে গরুর দাম দুই দিন আগে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলা হয়েছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ঋণের চাপ থাকায় কম দামে গরু ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তিনি।
খামারি ও ব্যাপারীদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও কাদার কারণে হাটে পশু রাখাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অসুস্থতার আশঙ্কায় অনেকে বড় লোকসান মেনেই গরু বিক্রি করেছেন। কেউ কেউ প্রতি গরুতে লাখ টাকার বেশি ক্ষতির কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। ক্রেতা আবু নাঈম বলেন, আগে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা চাওয়া একটি গরু তিনি ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন। আরেক ক্রেতা পরাণ জানান, ঈদের আগের দিন থেকেই গরুর দাম কমতে শুরু করেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা এক কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় এক কোটি ১ লাখ পশু।
শীর্ষনিউজ