Image description

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদনের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও দৃঢ়তা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের লাইসেন্সের আবেদন সাহসিকতার সঙ্গে নাকচ করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে ডিফিন ও ডিনেট আয়োজিত ‘রিস্ক কনফারেন্স অন ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ২০২৬’ এ প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বহুবার নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নীতিগত কাঠামো এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের কিছু দুর্বল ব্যাংক থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। এই বাস্তবতা নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দেয়। তাই প্রয়োজন হলে লাইসেন্সের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু ব্যাংক খাতেই নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় পড়ে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ তুলে সাবেক এই গভর্নর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব।

একইসঙ্গে তিনি আমানতকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বেশি সুদের প্রলোভনে দুর্বল ব্যাংকে অর্থ জমা রাখলে ঝুঁকি বাড়ে। ইতোমধ্যে এমন কিছু ব্যাংককে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; যা ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিমা খাত প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই খাতটি প্রায়ই আস্থার সংকটে ভোগে এবং অনেক সময় প্রতারণার অভিযোগের মুখে পড়ে। এ অবস্থার পরিবর্তনে কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও সচেতনতার বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নই ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।