বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে নিয়ে আবারও অপেক্ষার খেলায় ব্রাজিল। সান্তোস আশাবাদী, ২৭ মে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে ইএসপিএনের সূত্র বলছে, তার ডান পায়ের কাফে যে ফোলা দেখা দিয়েছে, সেটি শুরুতে যতটা হালকা মনে করা হয়েছিল, বাস্তবে তা ততটা নাও হতে পারে।
গত রোববার করিতিবার বিপক্ষে সান্তোসের ৩-০ গোলের হারের ম্যাচে ডান কাফে চোট পান নেইমার। তার কাফে এডিমা বা ফোলা ধরা পড়েছে। সান্তোসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্বাসন চললে সময়মতো ব্রাজিল ক্যাম্পে যোগ দিতে পারবেন ৩৪ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড।
কিন্তু ইএসপিএনের খবর অনুযায়ী, নেইমারের কাফের ফোলাটা ‘সামান্য’ নয়। সে কারণে তার সেরে উঠতে শুরুতে ধারণা করা সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। এর ফলে বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের দুই প্রস্তুতি ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে ৩১ মে পানামা এবং ৫ জুন মিসরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই দুই ম্যাচে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছে ইএসপিএন। ব্রাজিলের মেডিকেল দল তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। ২৭ মে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার সময় চোটের অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে।
নেইমারের ফিটনেস নিয়ে ব্রাজিলের উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে এসিএল চোটে পড়ার পর থেকে আর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেননি তিনি। গত কয়েক বছরে চোটের সঙ্গে লড়াই তার ক্যারিয়ারকে বারবার থামিয়ে দিয়েছে।
তবু বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে নেইমারকে রেখেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এটি তার চতুর্থ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। ব্রাজিলের হয়ে ৭৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ড দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
আনচেলত্তি এর আগে নেইমারকে নিজের কোনো দলে ডাকেননি। বারবারই বলেছেন, শতভাগ ফিট খেলোয়াড়দের নিয়েই তিনি দল সাজাতে চান। সেই জায়গা থেকেই নেইমারের দলে থাকা ছিল বড় আস্থার সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিশ্বকাপের ঠিক আগে নতুন চোট সেই সিদ্ধান্তের ওপর আবারও প্রশ্ন তুলছে।
ব্রাজিল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৩ জুন, মরক্কোর বিপক্ষে। হাতে সময় খুব বেশি নেই। তাই প্রস্তুতি ম্যাচে নেইমার না খেললেও মূল প্রশ্ন একটাই, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনি কতটা ফিট অবস্থায় নামতে পারবেন।