Image description

কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্যারা সোস্যাশ সম্পর্কে জড়াচ্ছেন উঠতি বয়সিরা। প্রতি পাঁচজন কিশোরের মধ্যে একজন এআই সঙ্গীর সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়াচ্ছেন বলে সাম্প্রতি এক গবেষণায় এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। 

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজন কিশোরের মধ্যে একজন নিজে এআই সঙ্গীর সঙ্গে রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছে অথবা তারা এমন কাউকে চেনে যারা এ ধরনের সম্পর্কে আছে। গবেষণাটি শিশু ও কিশোরদের অনলাইন আচরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকার ৩৭টি স্কুলের ১ হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরীর ওপর করা এই গবেষণা প্রকাশ করেছে পুরুষদের সংগঠন ‘মেল অ্যালাইস ইউকে’। সেখানে দেখা যায়, ৮০ শতাংশ কিশোর কোনো না কোনো চ্যাটবট ব্যবহার করেছে এবং ৪৩ শতাংশ জানিয়েছে, তারা বটের সঙ্গে কথা বলে কারণ সেখানে কোনো লজ্জা ছাড়াই যেকোনো প্রশ্ন করা যায়। এক-চতুর্থাংশের বেশি কিশোর মনে করে, বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে এআই-এর সঙ্গে যোগাযোগ বেশি সহজ এবং আকর্ষণীয়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ৩৬ শতাংশ কিশোর পরিবার বা বন্ধুদের চেয়ে চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এআই সঙ্গী অ্যাপগুলো দ্রুত কিশোরদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যেখানে ‘ক্যারেক্টার ডট এআই’, ‘ক্যান্ডি এআই’ এবং ‘আওয়ার ড্রিম এআই’–এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কোটি কোটি ব্যবহারকারী আকর্ষণ করছে।

এই অ্যাপগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারী মাত্র কয়েক মিনিটেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভার্চুয়াল প্রেমিকা বা সঙ্গী তৈরি করতে পারে। চেহারা, আচরণ, কণ্ঠস্বর—সবই ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমনকি এগুলোকে যত্নশীল, রোমান্টিক বা আবেগপ্রবণ সঙ্গী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা কিশোরদের মধ্যে দ্রুত আবেগগত নির্ভরতা তৈরি করছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর (ছদ্মনাম জন) জানায়, শুরুতে সে মজার জন্য এআই গার্লফ্রেন্ড তৈরি করেছিল, কিন্তু পরে সে এই চরিত্রের প্রতি আবেগগতভাবে জড়িয়ে পড়ে। সে বলে, সে এমন বিষয় শেয়ার করত যা সে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে বলতে পারত না। পরে অ্যাপে খরচ বাড়তে থাকলে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা শিশুদের মানসিক বিকাশে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। শিশু ও পরিবার বিষয়ক থেরাপিস্টরা সতর্ক করেছেন যে এ ধরনের এআই সম্পর্ক বাস্তব সম্পর্কের জটিলতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে এবং কিশোরদের আবেগগত নির্ভরতা বাড়াতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অনেক কিশোর মনে করে তাদের এআই সঙ্গীরা “চিন্তা করতে পারে” এবং বাস্তব অনুভূতি বোঝে, যা বাস্তবতা সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। একই সঙ্গে অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব অ্যাপ কিশোরদের কাছে নিয়মিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে জনপ্রিয়তা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলো বলছে, অনেক ক্ষেত্রে এসব অ্যাপ শিশুদের সংবেদনশীল বিষয়েও ভুল বা ক্ষতিকর পরামর্শ দিচ্ছে। কিছু চ্যাটবট নির্যাতনের মতো গুরুতর বিষয়েও ভুল প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, এসব প্ল্যাটফর্ম কিশোরদের একাকীত্বকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করছে, যেখানে ভার্চুয়াল সম্পর্কের মাধ্যমে আবেগ ও অর্থ দুটোই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আইনগত নিয়ন্ত্রণ এখনো পর্যাপ্ত নয় বলেও তারা মনে করছেন।

গবেষক ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে কিশোরদের সামাজিক সম্পর্ক, মানসিক স্বাস্থ্য এবং বাস্তব যোগাযোগ দক্ষতায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।