বাউলদের পক্ষে ‘অবস্থান’ নেওয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহারকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত ইসলামের নেতারা।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, বাউল ইস্যুতে সরকার অবস্থান বদল না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
সমাবেশে হেফাজতের ঢাকা মহানগরের আমির জুনায়েদ আল হাবীব বাউলদের নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ফরহাদ মজহারের অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি দুজনকেই ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান, বিশেষ করে ক্ষমা না চাইলে ফরহাদ মজহারকে গ্রেফতারের দাবি জানান।
জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ফরহাদ মজহারকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিবকে সতর্ক তিনি বলেন, ‘তওবা করেন নতুবা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করুন।’
জুনায়েদ বলেন, ‘সরকার বাউলদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। বাউলদের পক্ষ নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, সবগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। অভিযুক্ত বাউলদের গ্রেফতার করতে হবে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে দেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
হেফাজতের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী সমাবেশে বলেন, ‘যারা আবুল সরকারের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন, তারা আগামীতে ক্ষমতায় যেতে চান। এই ধরনের কাজে সমর্থন দিয়ে বিগত সরকার ক্ষমতায় টিকতে পারেনি।’
হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদ বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের ধর্মান্ধগোষ্ঠী বলে যারা কটূক্তি করেছেন, তাদের বলতে চাই– বাঙালি জাতিসত্তার আগে মুসলিম জাতিসত্তা না মানলে এদেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।’
সমাবেশে বক্তৃতা করেন হেফাজতে ইসলামের উপদেষ্টা মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।