রাজধানীর উত্তরা। সরকারি জায়গা বেদখল। গড়ে তোলা হয়েছে নানা স্থাপনা। ছোট-ছোট চায়ের দোকান। গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম। মানুষের বসত-ঘর। রাজনৈতিক কার্যালয়। রাষ্ট্রকে দখল বুঝিয়ে দিতে সোমবার (৮ জুন) সেখানে চালানো হয়েছে অভিযান। উচ্ছেদ করা হয়েছে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা।
উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ২৪ নম্বর সড়কের ১৭/বি নম্বর প্লটের ওই জায়গায় ব্যবসা করতেন মো. দুলাল। উচ্ছেদের সময় গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তার ছোট্ট চা দোকানটি। দুলালের সঙ্গে কথা হয় এশিয়া পোস্টের।
মো. দুলাল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের নেতাকর্মীদের দখলে ছিল। সরকার পতনের পর বিএনপির লোকজন দখলে নিয়েছে। নেতারা বিএনপির অফিসও করেছে। একটিতে বসতেন, আরেকটি তালাবদ্ধ থাকত। যেই দল ক্ষমতায় যায়, তারাই দখলে নেয়।
তিনি বলেন, আমাদের কাছ থেকে দোকানের ভাড়ার টাকা নিতেন কাশেম নামের একজন। তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলাম দোকানঘর।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউকের) জায়গাটিতে সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান। এ সময় রাজউকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিন দেখা যায়, জায়গাটিতে প্রায় অর্ধশত ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর মধ্যে দুটি ঘরে বিএনপির কার্যালয়। আরও ছিল চা দোকান, টেইলার্সের ট্রেনিং সেন্টার, গ্যাস সিলিন্ডার গুদাম ও বসত-ঘর।
সেখানে কথা হয় স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. আশিকের সঙ্গে। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, দলের নেতারা দখল করে অফিস করেছে। কিন্তু আমাদের এমপি সাহেব পারমিশন দেননি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় তারা ভোগ-দখল কইরা খাইছে। ৫ আগস্টের পর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল। পরে আমদের লোকজন করেছে। অফিসে কেউ কোনো দিন বসেনি।
একই এলাকার আরেক বিএনপি কর্মী ওমর আলী বলেন, আগে আওয়ামী লীগের অফিস ছিল। তারা তো পালায়ে গেছে। পরে আমরা দখল করছি।
চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, দোকানপাটের বিষয়ে আমি জানি না। আলী জানে। যুবলীগের নাছিরের ভাই আলী খাইতেছে। প্রতিটি দোকান থেকে আড়াই হাজার, তিন হাজার টাকা করে তোলা হতো।
তুরাগ থানা বিএনপির সদস্য আমির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে দল থেকে আমিই (অফিস) করেছি। ধানের শীষের পক্ষে। আমার কোনো ব্যক্তিগত পক্ষে না। আমার জন্য করিনি। ধানের শীষের কাজ করার জন্য করেছি।
তিনি বলেন, রাজউকের লোকজন আমাদের কিছুই জানায়নি। হঠাৎ করে এসে ভেঙ্গে দিয়েছে। কিছু লোকজন আছে, তারা দখল করে খাওয়ার জন্য এই কাজ করেছে।
এ বিষয়ে রাউজকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটা রাজউকের জায়গা। আমরা দখলমুক্ত করেছি।
রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান বলেন, রাজউকের পাঁচ কাঠার খালি প্লট এবং তার পাশের গ্রীণ জোনে (খাস জমি) অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা দোকানপাট, ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে লোকজন প্রশ্ন করেছিলেন। আমাদের বৈধতা জানতে চেয়েছিলেন। তাদেরকে বুঝিয়ে বলার পর বুঝতে পেরেছে।