ভোটের আগে ‘তাড়াহুড়া করে’ অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে যে দুটি আইন করার অভিযোগ উঠেছে, তার একটি— ‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ’ ফেরত পাঠিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
তবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এনজিও সংক্রান্ত বৈদেশিক অনুদান আইনের সংশোধিত খসড়া।
শনিবার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় অধ্যাদেশ দুটির খসড়া তোলা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশের বিষয়ে বলা হয়, “এই সংশোধনের ফলে বর্তমান আইনের কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন এসেছে। এনজিও নিবন্ধনের নিয়ম সহজ হয়েছে এবং অনুদান অবমুক্তির শর্তগুলোও সহজ করা হয়েছে।
“এখন থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের ক্ষেত্রে আর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। আইনটিকে আরও অংশীজনবান্ধব করা হয়েছে।”
‘পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর বিষয়ে বলা হয়েছে, “অধ্যাদেশটি আরও বিস্তারিতভাবে এবং সংশোধিত আকারে পরবর্তী পরিষদ সভায় উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।”
এদিন উপদেষ্টা পরিষদে ওঠার আগেই অধ্যাদেশ দুটির বিষয়ে আপত্তি তোলে বিএনপি।
দলটি মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের আইন করার পেছনে সরকারের ‘ভিন্ন উদ্দেশ্য’ রয়েছে।
শুক্রবার বিএনপির এক বিবৃতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে, তাড়াহুড়া করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাস করাতে চাইছেন। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন, অন্যটি এনজিও সংক্রান্ত আইন।
“আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগে এ ধরনের আইন পাস করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।”
গত বছর ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত সংস্কারের যে উদ্যোগ নেয়, সেখানে পুলিশ সংস্কারের বিষয়টিও ছিল। আর পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে ছিল ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের বিষয়টি।
পরে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে চূড়ান্ত জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়, সেখানেও স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে।
জুলাই সনদে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি 'পুলিশ কমিশন' গঠন করা হবে। এই প্রস্তাবের সঙ্গে ৩০টি দল ও জোট একমত পোষণ করেছে, কারও ভিন্নমত পাওয়া যায়নি।
কিন্তু বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়, “জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাস করা সমীচীন হবে না।
“আমরা মনে করি, এই আইন দুইটি পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে।”