সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফরিদপুরের সালথায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন অন্তত ২০টি গ্রামের হাজারো মানুষ।
সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৬টা বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজার এলাকায় তিনটি স্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানান সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, গট্টি ইউনিয়নের জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বর বিগত সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তবে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী সরকারের পতনের পর তারা দুজনেই বিএনপিতে যোগ দিয়ে গট্টি ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এর জেরে উভয় নেতার সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উভয়পক্ষের হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বালিয়া বাজার, কাঠিয়ার গট্টি গ্রাম ও বালিয়া গট্টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। জড়িয়ে পড়েন বালিয়া গট্টি, আড়ুয়াকান্দী, ঝুনাখালি, মেম্বার গট্টি, ভাবুকদিয়া, সিংহপ্রতাব, গট্টি, কানুইর, দিয়াপাড়া, জয়ঝাপ, আগুলদিয়া, মোড়হাটসহ গট্টি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ।
দফায় দফায় সংঘর্ষে চলা পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে এলাকার নারী ও শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর দাবি সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। লুটপাট করা হয়েছে গবাদি গশুসহ মালামাল। এর মধ্যে ওমর ফারুক নামে এক যুবকের পাঁচটি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য জাহিদ মাতুব্বর ও নুরু মাতুব্বরকে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।
সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কেএম মারুফ হাসান রাসেল বলেন, “সকাল থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।


