আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে উদযাপন হবে ঈদুল আজহা। ঈদ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই চলছে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢাকা ছাড়ার হিড়িক। এরই মধ্যে আপন গন্তব্যে পাড়ি জমিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ঈদের আগের দিনও থামেনি সেই জনস্রোত।
শেষ মুহূর্তের ঈদযাত্রায় রাজধানীর কমলাপুরে আজও সকাল থেকে ঢল নেমেছে ঘরমুখো যাত্রীদের। টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীরা স্টেশনে ভিড় করেছেন। অনেককে ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে
বুধবার (২৭ মে) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘুরে ঈদযাত্রার এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিন চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও স্টেশন ত্যাগ করতে পারেনি। পরে ট্রেনটি প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা পিছিয়ে সকাল ১০টা নাগাদ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কমলাপুর রেলস্টেশনে সকাল থেকে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। নির্দিষ্ট ট্রেন আসামাত্র ছুটছেন যাত্রীরা। যে যার মতো চেপে বসছেন আসনে। কেউ আবার ঝুলছেন দরোজায়। দরোজা দিয়ে প্রবেশ করতে না পেরে অনেকে জানালা দিয়ে প্রবেশ করছেন। যারা ট্রেনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি তারা চেপে বসেছেন ছাদে। বৃষ্টিতে তাদের কেউ কেউ ছাতা কেউবা আবার পলিথিনে আবৃত্ত হয়ে দল বেঁধে বসে আছেন ছাদে।
নীলফামারীর যাত্রী নাজিম জাগো নিউজকে বলেন, ঈদে বাড়ি না গেলে চলে! টিকিট পাইনি বলে কি ঈদে বাড়ি যাবো না! কাল ঈদ, যেভাবেই হোক আজ বাড়ি যেতে হবে। তাই ট্রেনের ছাদে উঠে গেছি।
চিলাহাটির যাত্রী জামিল বলেন, অগ্রিম টিকিট পাইনি, ভাই। যে কারণে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে বাড়ি যাচ্ছি। তবে কপাল ভালো সিট ফাঁকা পেয়েছি। সিটের যাত্রী এলে সিট ছেড়ে দেবো। তবে বাড়ি ফিরতে পারছি এটাই অনেক।

কামাল হোসেন নামের আরেক যাত্রী বলেন, অগ্রিম টিকিট কেটেছিলাম। যে কারণে সিট পেতে ঝামেলা হয়নি। তবে ট্রেন ছাড়তে তিন-চার ঘণ্টা লেট হয়ে যাচ্ছে। কখন পৌঁছাতে পারবো বলা কঠিন। সকাল ৬টার ট্রেন তিন ঘণ্টা লেটেও ছাড়ছে না।
জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) জাগো নিউজ বলেন, সাধারণত ঈদের সময় কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় হয়। ধরেন এই ট্রেনটি যাবে চিলাহাটি। সেখানে যেতে কতগুলো ক্রসিং আছে। তারপর আবার সেখানে পৌঁছে ট্রেনের বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা থাকে, আরও কিছু কাজ থাকে। সবকিছু চেক করতে হয়, যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। আবার ট্রেনটি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আসতে হয়। যে কারণে ঈদের সময় ফিরতি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাতে কিছুটা লেট হয়।