বেসরকারি চাকরজীবী এনাম হোসেন হাতে ফুল নিয়ে মেট্রোরেলের সচিবালয় স্টেশনে প্রবেশ করে র্যাপিড পাস কার্ড স্ক্যান করে পার হচ্ছিলেন, তখন আনসার সদস্য তাকে বাধা দিয়ে বললেন, ফুল নিয়ে যাওয়া যাবে না। আপনি কাউন্টারে কথা বলেন। পরে ঝামেলা মনে করে এই যাত্রী আর মেট্রোতে না চড়ে প্রবেশ পথ দিয়ে বেরিয়ে আসেন। পরদিন তিনি অফিসে আসার সময় ফার্মগেট স্টেশনে প্রবেশ করে কার্ড স্ক্যান করতে যান, তখন তার কার্ড ব্লক দেখাচ্ছে।
পরে কাউন্টারে গিয়ে জিগ্যেস করলে এনাম হোসেনকে জানানো হয়, ‘সচিবালয় স্টেশনে স্ক্যান করার পর যেহেতু আউট স্ক্যান নেই, তাই সার্ভার ধরে নিয়েছে তিনি মেট্রো স্টেশনেই অবস্থান করছেন। এ কারণে ১০০ টাকা জরিমানা দিয়ে কার্ডের ব্লক ছাড়তে হবে।’ শেষে হতাশ হয়ে তিনি জরিমানা পরিশোধ করে পুনরায় মেট্রোরেল ভ্রমণ করেন।
এই নিয়মের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ এনাম হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাকে ফুল নিয়ে যেতে না দেওয়ায় আমি স্ক্যান করার পরও ভ্রমণ না করে স্টেশন থেকে বেরিয়ে গেছি। কিন্তু এই নিয়মটা জানলে তো ভ্রমণ করতাম। আমি যখন সচিবালয় স্টেশনে কার্ড স্ক্যান করি, তাহলে সর্বশেষ স্টেশন হচ্ছে উত্তরা উত্তর। সেখান পর্যন্ত যেতে নির্ধারিত যে সময় লাগে, এ সময়ের মধ্যে আউট স্ক্যান না পেলে অটোমেটিক তা বাতিল করতে পারে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তা না করে এই জরিমানার বিধান সাধারণ যাত্রীরা হয়রানির শিকার হতে থাকবে বলে মনে করি।
মেট্রোরেল স্টেশনগুলোয় কার্ড স্ক্যান করে স্টেশনে প্রবেশ করে যাত্রা না করে একই স্টেশন দিয়ে বের হয়ে এলে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এমন নিয়ম আগেই চালু করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ডিএমটিসিএল এক নোটিশে জানিয়েছে, ‘সম্মানিত যাত্রীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, একই স্টেশনে বিনা ভাড়ায় এন্ট্রি-এক্সিট বন্ধ করা হয়েছে। একই স্টেশনে প্রবেশের পর বের হলে ১০০ টাকা ভাড়া কাটা হবে।’
যদিও ১০০ টাকা জরিমানা কাটার বিধানের আগে মেট্রো স্টেশনের ভেতরে প্রবেশের পাঁচ মিনিটের মধ্যে বের হলে কোনো ভাড়া নেওয়া হতো না। নতুন নিয়মের ফলে সেই সুযোগ বাতিল হয়ে যায়।
একই অভিজ্ঞতা আরেক যাত্রী মাহমুদ হোসেনের। তিনি জানান, গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তিনি সচিবালয় স্টেশনে প্রবেশ করে স্ক্যান করে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। পরে জরুরি কাজের জন্য তিনি ভ্রমণ না করে এক্সিট পয়েন্ট দিয়ে বেরিয়ে যান। পরদিন একই স্টেশনে প্রবেশ করে স্ক্যান করতে গেলে কার্ড ব্লক দেখায়। কাউন্টারে গিয়ে জানতে চাইলে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে জানানো হয়।
তিনি বলেন, এমন নিয়ম অনেক সাধারণ যাত্রী অবগত নয়। এতে তারাও এভাবে বিপাকে পড়ে জরিমানা গুনবে। তবে তিনিও এ নিয়মের পরিবর্তন চান।
তবে এ বিষয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ আগেও জানিয়েছিল, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কৌশলী জালিয়াতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। চক্রটি পাঁচ মিনিটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিয়মিত বিনা ভাড়ায় ভ্রমণ করছিল।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘যাত্রীর বৈধ বা যৌক্তিক কোনো কারণে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে টিকিট কাউন্টারে জানালে তিনি এই জরিমানা থেকে ছাড় পাবেন। মূলত জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন এ উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।’
এই ব্যবস্থা কেবল প্রতারণামূলকভাবে নিয়ম ভাঙা চক্রের জন্যই নেওয়া হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা এতে ভোগান্তিতে পড়বেন না বলে জানায় ডিএমটিসিএল।