Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে হয়রানি, আপত্তিকর ছবি প্রচার এবং রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটি। অভিযোগ ওঠার ২০ দিনের বেশি অতিক্রমের পর আজ রবিবার (২৪ মে) এক নোটিশে এই তথ্য জানিয়েছে ছাত্রদল।

একই দিন বান্ধবীকে নিয়ে মেসে যাওয়ার পর ‘আপত্তিকর অবস্থা’য় আটকের ঘটনায় ‍অপর এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাকিফ রহমানকে বাঁচাতে তার জায়গায় শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া ওই ছাত্রীর সঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে অপপ্রচারের অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে।

ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এই নির্দেশনা প্রদান করেন বলেও শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে।

ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ৩ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে তিনি লেখেন, আমার বিভাগের সিনিয়র মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বিগত কয়েক বছর যাবৎ আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছে। আমার বন্ধুদের কাছে আমার নামে বিভিন্ন ধরনের নোংরা ও আজেবাজে কথা বলে আমার মানহানি করার চেষ্টা করছে এবং মিথ্যা ও বানোয়াট ছবি দেখিয়ে আমার বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সম্প্রতি উক্ত ব্যক্তি আমাকে রাস্তাঘাটে বিরক্ত করছে। বিষয়টি আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি ও সামাজিক মর্যাদার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমার পরিবারও বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত।

তিনি আরো লেখেন, বিগত ২ মে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে আমার আইডিতে একটি হুমকিজনক ম্যাসেজ এসেছে। আমার ধারণা, উক্ত ব্যক্তিই ম্যাসেজটি পাঠিয়েছে।

অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী জানান, গত ১৮ মে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ও আপত্তিকর ছবি প্রচার করা হয়েছিল। বিষয়টি তিনি তৎক্ষণাৎ হাটহাজারী থানা ও প্রক্টোরিয়াল বডিকে অবগত করেন। এই ঘটনার সাথেও উক্ত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আছে বলে সন্দেহ অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর।

ওই সদয় মোহাম্মদ শামীম তার সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, মেয়েটির সাথে আমার তিন বছর আগে রিলেশন ছিল। কিন্তু মেয়েটি প্রতারণা করে আমার সাথে রিলেশন ভেঙে দেয়। বর্তমানেও মেয়েটি একাধিক রিলেশনে জড়িত। ৩ বছর আগে থেকেই আমি আমার মতো থাকি। মেয়েটিকে কোনো ধরনের হয়রানি করিনি।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটির সাথে যেহেতু একাধিক ছেলের রিলেশন ছিল, হয়ত তারাও এসব করতে পারে। আর মেয়েটি আমার নামে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ দিতে পারেনি। ফেইক আইডির উপর নির্ভর করে আমার নামে তো অভিযোগ দিতে পারে না। এটা একটা ভুল বুঝাবুঝি। আজকে প্রক্টর অফিসে এ বিষয়ে বসব।২৩