হবিগঞ্জে আইইউসিএনের লাল তালিকাভুক্ত বিপদগ্রস্ত প্রজাতির একটি বিরল ইউরেশীয় স্কোপ্স পেঁচা উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জীবনচক্রের প্রয়োজনে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থান পরিবর্তনের সময় পথভ্রষ্ট হয়ে পাখিটি লোকালয়ে আটকে পড়ে।
আজ রবিবার বিকালে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পৈল রোডে অবস্থিত ব্র্যাক কার্যালয় থেকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কর্মীরা ঝিমন্ত অবস্থায় পেঁচাটি উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর পরই পাখিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আজ বিকালে যখন ব্র্যাক কার্যালয়ে একটি প্রশিক্ষণ চলছিল, তখন সেখানে কর্মরত কমিউনিটি ভলান্টিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ রিপন কার্যালয়ের একটি ভাঙা চেয়ারে পাখিটিকে বসে ঝিমাতে দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিক বন্যপ্রাণী বিভাগে খবর দিলে উদ্ধারকারীরা এসে পেঁচাটি হেফাজতে নেন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সোসাইটির সাবেক সমন্বয়কারী সামিউল মোহসেনিন পাখিটির ছবি দেখে প্রজাতিটি নিশ্চিত করেছেন। তার মতে, এটি ইউরেশীয় স্কোপ্স পেঁচা। যা ছোট আকৃতির নিশাচর পাখি। এটি ইউরোপিয়ান স্কোপ্স পেঁচা নামেও পরিচিত।
তিনি প্রজাতিটির ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে আরও বলেছেন, দক্ষিণ ইউরোপ, পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়াজুড়ে এদের মূল বিচরণ রয়েছে। শীত মৌসুমে এরা সাধারণত উষ্ণ অঞ্চলে চলে যায়। এমনকি কখনো কখনো সাহারা-সংলগ্ন আফ্রিকাতেও পরিযান করে।
ধূসর বর্ণের এই পেঁচাটির দৈর্ঘ্য ১৯ থেকে ২১ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৪ থেকে ১৩৫ গ্রাম হয়ে থাকে। ২০২৩ সালে আইইউসিএন এই প্রজাতিটিকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করে।
পাখিটির বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বলেছেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, এই প্রজাতিটি জীবনচক্রের প্রয়োজনে নিয়মিত দীর্ঘ পথ পরিযান করে থাকে। সম্ভবত পথ হারিয়ে এখানে চলে এসেছে। ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে কিংবা অন্য কোনো প্রাণী বা মানুষের তাড়া খেয়ে পাখিটির ডানায় সামান্য আঘাত লেগে থাকতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা ও সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করার পর পেঁচাটিকে আবার নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।