যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, দিনের পরবর্তী সময়ে ইরান বিষয়ে আরও খবর আসতে পারে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ‘সুখবর’ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার (২৪ মে) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় এই কথা বলেন মার্কিন এই কূটনীতিক। বর্তমানে তিনি ভারতে সফররত রয়েছেন।
মার্কো রুবিও আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির সমাধান হতে পারে এমন একটি রূপরেখার বিষয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই মন্তব্য করলেন রুবিও। ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন ওই নেতা বলেন, ‘এই উদীয়মান চুক্তির মাধ্যমে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে’। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
চুক্তিতে আর কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা তিনি বলেননি। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও বিস্তারিত বিষয় নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরিই তা ঘোষণা করা হবে।
ইরান কি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সমর্পণ করবে?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমের প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে সম্মত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, তেহরান তার প্রায়-অস্ত্র-মানের ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। প্রায়-অস্ত্র-মানের ইউরেনিয়াম বলতে সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামকে বোঝায়। এটি দিয়ে খুব দ্রুত পারমাণবিক বোমা বা অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা হবে, যা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চাপ দিয়ে আসছে।
তবে, পরে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রতিবেদনটির মূল দাবিটি খণ্ডন করেছেন বলে মনে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সূত্রটি জানায়, তেহরান তার উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। তারা দাবি করেছে, ইরানের পারমাণবিক বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির অংশ ছিল না।
রয়টার্সকে ইরানি সূত্রটি বলেছে, পারমাণবিক বিষয়টি একটি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় উত্থাপন করা হবে এবং সেহেতু এটি বর্তমান চুক্তির অংশ নয়। ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে বাইরে পাঠানোর বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম রয়েছে। এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে