Image description

‘পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ায় একজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে’-এমন একটি স্পর্শকাতর দাবি সম্প্রতি একটি ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, যা জনমনে তীব্র বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।

তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত এই দাবিটি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। মূলত, কক্সবাজারে এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে এই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

অনুসন্ধান ও আসল ঘটনা

তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ‘MD Sohel Sikder Rana’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রথম এই ছবিটি প্রচার করা হয়। তবে আসল ঘটনাটি ভিন্ন। ছবিটির প্রকৃত উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, এটি কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে ‘আতিক উল্লাহ আল মামুন’ নামে এক প্রতারককে গ্রেফতারের ঘটনার দৃশ্য, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। 

 

 

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ‘উখিয়া নিউজ’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালে একই ঘটনার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করে যে, কক্সবাজার শহরের স্টেডিয়াম এলাকা থেকে মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ আল মামুনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

 

তদন্তের বিবরণ ও পুলিশের বক্তব্য

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় মামুনের পরনে ছিল বাংলাদেশ পুলিশের পূর্ণাঙ্গ অফিশিয়াল ইউনিফর্ম। তার আচরণ, কথা বলার ধরণ ও পরিচয় নিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হলে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, তিনি কোনো পুলিশ সদস্য নন; বরং পুলিশের পোশাক পরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছিলেন। পুলিশ আরও জানায়, তার ব্যবহৃত নিখুঁত পোশাক ও উপস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে তাকে আসল পুলিশ সদস্য মনে হওয়াই স্বাভাবিক ছিল।

সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, আলোচিত এই ছবিটির সাথে পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়া বা কোনো আসল পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, আইনি প্রক্রিয়ায় ভুয়া পরিচয়ে পুলিশ সেজে থাকা এক প্রতারককে আটকের বাস্তব ছবিকে বিকৃত ক্যাপশনে প্রচার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা দাবিটি ছড়ানো হচ্ছে।