চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজ আসনে হেরেছেন। তাকে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাস্ত করেছেন বিজেপি নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে ধরাশায়ী হওয়ার পর এবার নতুন বিপদের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার ২০ দিনের মাথায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় খালি করে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছে ভবনটির মালিক। মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ভবন মালিক মন্টু সাহার এমন আচমকা ভোল বদলে হতবাক হয়েছেন তৃলমূল কংগ্রেসের নেতারা।
দলটির রাজনৈতিক প্রধান কার্যালয়টি এতদিন পরিচিত ছিল ‘তৃণমূল ভবন’ নামে। কলকাতা ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে তোপসিয়া এলাকায় অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে যখন তৃণমূলের জন্ম হয়, তখন দলের আর্থিক অবস্থা তেমন পোক্ত ছিল না। পরে ২০০২ সালে তপসিয়ায় যে দপ্তরটি তৈরি হয়েছিল, তা ছিল নেহাতই কাজ চালানোর মতো।
২০২২ সালে পুরোনো ভবন ভেঙে ঝা চকচকে আধুনিক দলীয় কার্যালয় বানানোর কাজ শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস। নকশা অনুযায়ী, প্রায় ৮৪৩ বর্গমিটার জমির ওপর ছয়তলা এই অত্যাধুনিক ভবনের মূল কাঠামোটি মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ২০.৩৫ মিটার উঁচু এই ভবনের প্রতি তলায় রয়েছে ৩২৫.২০ বর্গমিটার কভার্ড স্পেস। সঙ্গে রাখা হয়েছিল ৩০টি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ২১৯.৫২ বর্গমিটার জায়গা এবং ছাদে বিশালাকার জলাধার।
গত এপ্রিলে বিধানসভা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দিনরাত জোরকদমে কাজ চললেও ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। নেতাকর্মীদের ঢোলও তেমন চোখে পড়ে না।
এদিকে নতুন দলীয় ভবন যতদিন না তৈরি হয়, ততদিন দলের কার্যক্রম চালানোর জন্য বাইপাস এলাকার একটি বহুতল ভবন ভাড়া নিয়েছিল তৃণমূল। যে বাড়িটি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী রাজ্য দপ্তর হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছিল, সম্প্রতি সেটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভবন মালিক মন্টু সাহা। ভবন ছেড়ে দিতে দুই মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন।
রাজ্যের অন্যতম নামকরা ডেকরেটার্স সংস্থা মডার্ন ডেকর্টর্সের কর্ণধার মন্টু সাহা। কিন্তু কেন রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরই তৃণমূলকে ভবন ছাড়তে বললেন তিনি? এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিত মন্টু সাহা দাবি করেন, ‘গত ৪ তারিখ ভোটের ফল বেরনোর পরই আমার ওই বাড়ি বাইরে থেকে ভাঙচুর করা হয়। বাড়িটার ক্ষতি হলে তো আমারই ক্ষতি হবে। এর মধ্যে অন্য কোনো বিষয় নেই।’
তিনি জানান, প্রথমে দুই বছরের চুক্তিতে ওই বাড়ি ভাডা় নেয় তৃণমূল। পরে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে ভবন ভাড়া পুরোটাই পরিশোধ করেছে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।
মেট্রোপলিটনের এই তৃণমূল ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপ্যায়ের জন্য আলাদা ঘর ছিল। সাংবাদিক বৈঠকের জন্যও দলের প্রথমসারির অনেক নেতাই নিয়মিত এই কার্যালয়ে আসতেন। তবে এই ভবনটি মূলত আগলে রাখতেন দলের সভাপতি সুব্রত বক্সি ও রাজ্যের সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার।
তবে অস্থায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের এই দলীয় কার্যালয়টি উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় খুশি অস্থায়ী তৃণমূল কংগ্রেস ভবনের বিপরীত দিকের বাড়ির বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, গত চার বছর ধরে বাড়ির জানালা বন্ধ করে রাখতে হতো। কারণ, বাড়ির সামনে মস্ত হোর্ডিং লাগানো ছিল। যার ফলে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা ছিল না।
তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলেই বাড়ি থেকে বেরতে দেওয়া হতো না। বাড়ির গেট আটকে রাখা হতো নানা সময়ে। অভিযোগ জানাতে গেলে দেওয়া হত হুমকি।