কোনো কোনো কোরবানিদাতার জন্য পশু জবাই, গোশত কাটা ও বণ্টনের কাজে মানুষের সহযোগিতা নিতে হয়। সহযোগিতার বিনিময়ে পারিশ্রমিক দিতে হয় তাদের। পারিশ্রমিক হিসেবে অনেকেই টাকা দেন। কেউ আবার কোরবানির গোশতও দিতে চান। প্রশ্ন হলো, পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেওয়া যাবে কি না?
সামর্থ্যবানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি করতে হবে শরিয়তের বিধান মেনে। কোরবানিতে এমন কিছু ভুল আছে, যা করলে ব্যক্তির কোরবানি হবে না। হজরত আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে কোরবানির পশুর দেখাশোনা করতে বলেন এবং নির্দেশ দেন যেন কসাইকে পশুর গোশত, চামড়া বা অন্য কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে না দেওয়া হয়।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানির গোশত, চামড়া বা পশুর কোনো অংশ শ্রমের বিনিময়ে মজুরি হিসেবে দেওয়া বৈধ নয়। কারণ কোরবানির পশু মূলত আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। তাই এর কোনো অংশকে ব্যবসায়িক লেনদেন বা পারিশ্রমিকের মাধ্যম বানানো ঠিক নয়। তাই যে চামড়া ছাড়ায়, গোশত কাটাকাটি করে দেয়, তাকে এর পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত বা পশুর কোনো অংশই দেওয়া যাবে না।
পারিশ্রমিক আর হাদিয়া বা উপহার এক বিষয় নয়। যদি কসাই বা শ্রমিককে তার কাজের মজুরি নগদ অর্থে পরিশোধ করা হয়, এরপর অতিরিক্তভাবে সৌজন্য বা উপহার হিসেবে কিছু গোশত দেওয়া হয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ সে ক্ষেত্রে গোশতটি মজুরি নয়, বরং সাধারণ দান বা আপ্যায়নের অন্তর্ভুক্ত।
আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, কসাইয়ের পুরো পারিশ্রমিকই গোশতের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সঠিক পদ্ধতি নয়।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, ‘কোরবানির গোশত, চামড়া বা অন্য কিছু বিনিময় হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। কেননা হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে। আলি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে আদেশ করেছেন কোরবানির উটের কাছে থেকে তার গোশত ও চামড়া সদকা করতে এবং কসাইকে তা থেকে কিছু না দিতে। তিনি আরও বলেছেন, আমরা কসাইকে নিজেদের পক্ষ থেকে পারিশ্রমিক দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৩২)। কোনো অবস্থায় কোরবানির গোশত বিনিময় হিসেবে দেওয়া যাবে না। তবে টাকা বা অন্য কিছু দিয়ে পরিপূর্ণ পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়ার পর হাদিয়া হিসেবে কোরবানির গোশত দিতে পারবে এবং দেওয়া উচিত। (আদ-দুররুল মুখতার, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩২৮; ফতোয়া তাতারখানিয়া, খণ্ড: ১৭, পৃষ্ঠা: ৪৪২)
কোরবানির গোশতের মধ্যে গরিব ও অসহায় মানুষেরও হক রয়েছে। তাই তা যেন যথাযথভাবে বণ্টিত হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। ইসলামের নির্দেশনা মেনে কোরবানির ইবাদত আদায় করাই একজন সচেতন মুসলমানের কর্তব্য।