Image description

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঈদ যাত্রা নিরাপদ, সুগম ও নির্বিঘ্ন করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) সকালে এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।   

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক ও যাত্রী সাধারণকে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে:
১. বাস যাত্রার সিডিউল অনুযায়ী টার্মিনাল হতে বাস ছাড়তে হবে।
২. যাত্রীদের নিকট হতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।
৩. যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা যাবে না।
৪. একই সিট একাধিক যাত্রীর নিকট বিক্রয় করা যাবে না।
৫. সিট ব্যতীত বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না।
৬. পণ্য ও পশুবাহী যানবাহনে বিশেষ করে ফিরতি যানবাহনে যাত্রী বহন করা যাবে না।
৭. গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে, বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
৮. ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু ব্রিজে ওভারটেকিং করা যাবে না।
৯. নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব হলে ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না।
১০. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না।
১১. গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন বা এয়ারফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং গাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না।
১২. উল্টো রাস্তায় গাড়ি চালানো যাবে না।
১৩. ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করে গাড়ি চালক নিয়োগ করতে হবে।
১৪. মালিক কর্তৃক চালককে একটানা ৫ ঘন্টা ও দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না।

যাত্রী সাধারণের উদ্দেশ্যে:
১. সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল/ কাউন্টারে গিয়ে বাসে উঠতে হবে।
২. অপরিচিত কারো দেওয়া কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না।
৩. মালামাল নিজ হেফাজতে/দায়িত্বে রাখতে হবে।
৪. বাস যাত্রার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাউন্টার/ টার্মিনালে হাজির হতে হবে।
৫. রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ/ আন্ডারপাস/ জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে হবে।
৬. চলন্ত গাড়িতে উঠানামা করা এবং পণ্যবাহী/ পশুবাহী মোটরযানে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করা যাবে না।

পথচারীদের উদ্দেশ্যে:
১. জেব্রা ক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে।
২. দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার হওয়া যাবে না।
৩. ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে হবে।

কোরবানীর পশুর হাট কেন্দ্রিক যান চলাচলের নির্দেশনা:
(১) পশুর হাটের ইজারায় উল্লেখিত সীমানা ও স্কেচ ম্যাপের বাইরে সড়কের উপর কোনভাবেই কোরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় এবং লোড-আনলোড করা যাবে না।
(২) কোরবানীর পশু পরিবহনকারী যানবাহন আনলোড করার জন্য এবং বিক্রয়কৃত পশু ট্রাক/ পিকআপে লোড করার জন্য হাটের ভিতর পৃথক পৃথক জায়গা খালি রাখতে হবে। যদি হাটে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে তবে নিকটবর্তী কোনো জায়গায় পৃথক পৃথক আনলোড এবং বিক্রিত পশু লোড করার স্থান নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় কোরবানীর পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে কোন হাটে কোরবানীর পশু যাবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট
হাটের নাম সম্বলিত ব্যানার ট্রাকের সম্মুখে টাঙাতে হবে।
(৪) হাইওয়ে বা গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে কোন পশুর হাট ইজারা প্রদান না করা।
(৫) যদি কোন পশুর হাট ঢাকা মহানগরের ফিডার রোড/সরু রোডের পাশে ইজারা দেয়া হয়, তবে অবশ্যই সড়ক এবং হাটের মাঝে ৬ ফুট উঁচু প্রাচীর স্থাপন করতে হবে এবং সুবিধাজনক জায়গায় এন্ট্রি এবং পৃথক এক্সিট রাখতে হবে।
(৬) পশুর হাট সংলগ্ন সড়কসমূহে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে সহযোগিতার জন্য ইজারাদারগণ কর্তৃক পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী/স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে।
(৭) পশুর হাটে গমনাগমনকারী রাস্তায় কোনক্রমেই ক্রেতাগণের গাড়ী, পশুবাহী ট্রাক/পিকআপ পার্কিং করা যাবে না। কেউ পার্কিং করলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ী আটক করে ডাম্পিং/আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(৮) পশুর হাটের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(৯) সড়কের উপরে যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাই না করে যথাসম্ভব নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করতে হবে।

বার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন এলাকায় যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়ানোর জন্য উপরোক্ত নির্দেশনাসমূহ সংশ্লিষ্ট সকল যানবাহনের মালিক, চালকগণ, পশুর হাট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নগরবাসীকে প্রতিপালন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সকলের সহযোগিতা কামনা করছে।

এছাড়াও পবিত্র ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সকলের সহযোগিতা কামনা করছে।