Image description

কোরবানি ইসলামের অপরিহার্য বিধান। প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব, আপনি আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ (সুরা কাউছার, আয়াত: ২)

মিখনাফ ইবনে সুলাইম (রা.) বলেন, ‘আমরা আরাফার ময়দানে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি বললেন, ‘হে মানুষ, প্রত্যেক পরিবারের ওপর প্রতি বছর একটি কোরবানি করা আবশ্যক।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৮৮)

হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে কোরবানি করেছেন। জাবের (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি শিংওয়ালা সাদা-কালো মেষ কোরবানি করেন। একটি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি তাঁর উম্মতের যেসব ব্যক্তি কোরবানি করতে পারেনি, তাদের পক্ষ থেকে। (জবাইয়ের সময়) বলতেন, ‘এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের যেসব ব্যক্তি কোরবানি করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৫২১)

যেখানে কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের নামে কোরবানি করেছেন, সেখানে তার নামে কোরবানি করতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। হানাশ (রহ.) বলেন, আমি আলি (রা.)-কে দুটি দুম্বা কোরবানি করতে দেখলাম। তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এটি কী?’ তিনি বললেন, ‘রাসুল (সা.) আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোরবানি করার অসিয়ত করেছিলেন। তাই আমি তার পক্ষ থেকে কোরবানি করি।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৭৯০)

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কেউ যদি ভালোবাসা ও সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে নফল কোরবানি করতে চান, তাহলে তা জায়েজ হবে। অর্থাৎ নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায়ের পর অতিরিক্ত একটি পশু কিংবা উট, মহিষ বা গরুর এক সপ্তমাংশ তাঁর সওয়াবের উদ্দেশ্যে কোরবানি করা যাবে। তবে এটিকে সুন্নত বা আবশ্যক মনে করা যাবে না। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রথমত নিজের কোরবানি ওয়াজিব। সেই ওয়াজিব কোরবানি বাদ দিয়ে অন্য কারও নামে কোরবানি করলে দায়মুক্তি হবে না। (ফতোয়া মাহমুদিয়া, পৃষ্ঠা: ২৬৩১)

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামে কোরবানি করা মূলত নফল ও ইসালে সওয়াবের পর্যায়ভুক্ত একটি বিষয়। এটি করা জায়েজ হলেও বাধ্যতামূলক বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা নয়। নিজের ওয়াজিব কোরবানি যথাযথভাবে আদায়ের পর অতিরিক্তভাবে এ আমল করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি, ভুল আকিদা কিংবা আবশ্যকতার ধারণা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামে দেওয়া কোরবানির গোশতও তিন ভাগ করা মুস্তাহাব। এক ভাগ ব্যক্তি নিজে খাবে, বাকি দুই ভাগ প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও গরিবদের মাঝে ভাগ করে দেবে। চাইলে ব্যক্তি একাই খেতে পারবে। তবে অন্যদের দিয়ে খাওয়ার মধ্যেই আছে অফুরন্ত সওয়াব।