Image description
 

বিয়ে করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। দায়িত্বে থাকা প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে দেশটির ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন তিনি।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানী ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘দ্য লজ’-এ সঙ্গী জোডি হেইডনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অ্যান্থনি আলবানিজ। আলবানিজের ছেলে নাথান এবং হেইডনের বাবা-মাসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুর উপস্থিতিতে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।

এক যৌথ বিবৃতিতে আলবানিজ ও হেইডন বলেন, ‘পরিবার ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সামনে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ জীবন একসঙ্গে কাটানোর অঙ্গীকার করতে এবং ভালোবাসা ভাগ করে নিতে পেরে আমরা ভীষণ আনন্দিত।’

বিয়েতে নিজেদের লেখা শপথপত্র পাঠ করেন আলবানিজ-হেইডন দম্পতি। হেইডনকে বিয়ের কক্ষে নিয়ে আসেন তাঁর বাবা-মা। এ সময় বাজতে থাকে মার্কিন গায়ক বেন ফোল্ডসের গান ‘দ্য লাকিয়েস্ট’।

হেইডন পরেছিলেন সিডনি ডিজাইনার রোমান্স ওয়াজ বর্ন-এর তৈরি ড্রেস। আর আলবানিজ পরেছিলেন এমজে বেল-এর তৈরি স্যুট। বিয়ের আংটি নেওয়া হয়েছিল সিডনির লেইচার্ডের সের্রোন জুয়েলার্স থেকে।

হেইডনের পাঁচ বছরের ভাগ্নি এল্লা ‘ফ্লাওয়ার গার্ল’-এর দায়িত্ব পালন করে এবং আংটি বহনের দায়িত্ব পালন করে আলবানিজের কুকুর টোটো। অনুষ্ঠানে সাক্ষী ছিলেন হেইডনের ভাই প্যাট্রিক এবং আলবানিজের বোন (কাজিন) হেলেন গোল্ডেন।

অনুষ্ঠানের পর দম্পতি বিয়ের কক্ষ থেকে বের হন মার্কিন গায়ক স্টিভি ওয়ান্ডারের গান ‘সাইনড, সিলড, ডেলিভারড (আই’ম ইয়োরস)’-এর তালে তালে। তাঁদের প্রথম নৃত্য ছিল ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার গান ‘দ্য ওয়ে ইউ লুক টুনাইট’-এর সুরে।

বিয়েতে নিজেদের লেখা শপথপত্র পাঠ করেন আলবানিজ-হেইডন দম্পতি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
বিয়েতে নিজেদের লেখা শপথপত্র পাঠ করেন আলবানিজ-হেইডন দম্পতি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

এই দম্পতি আগামী সপ্তাহে হানিমুনে যাবেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা যায়।

২০২৫ সালের অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টের শেষ অধিবেশনের পর এবং আলবানিজের বিপুল সংখ্যক ভোটে পুনর্নির্বাচনের ছয় মাস পর এই বিয়ের আয়োজন হলো। এ বিয়ে নিয়ে তেমন কোনো তথ্য লেবার পার্টি প্রধানের অফিস থেকে প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, বিয়ের খরচ এই দম্পতি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।

অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ট্রেজারার জিম চ্যালমার্স ও তাঁর স্ত্রী লরা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং, অর্থমন্ত্রী কেটি গ্যালাঘার এবং এএলপি ন্যাশনাল সেক্রেটারি পল এরিকসন। প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ টিম গারট্রেলও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ বছর আগে মেলবোর্নে এক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয়েছিল হেইডন ও আলবানিজের। সেখানে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা আলবানিজ বক্তৃতা দিয়েছিলেন। সেখানে আলবানিজের সঙ্গে পরিচয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্ত হন হেইডন।

এক সাক্ষাৎকারে হেইডন বলেন, “তাঁর একটি পাবলিক প্রোফাইল ছিল। তাই আমি জানতাম আমরা দুজনই একই ফুটবল দলের অনুসারী, আমরা দুজনেই ইনার ওয়েস্টকে ভালোবাসি। মনে পড়ে আমি সেই ডাইরেক্ট মেসেজে বলেছিলাম, ‘হেই, আমরা দুজনেই সিঙ্গেল!’ ”

আলবানিজ-হেইডন দম্পতি আগামী সপ্তাহে হানিমুনে যাবেন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
আলবানিজ-হেইডন দম্পতি আগামী সপ্তাহে হানিমুনে যাবেন। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

গত বছর ভালোবাসা দিবস ‘দ্য লজ’-এর বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেইডনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন আলবানিজ। এনগেজমেন্ট রিংও তৈরি করে এনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আলবানিজের সহানুভূতি এবং সদয়তার স্বভাবের প্রশংসা করেন হেইডন। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার স্বাধীনতাকে সম্মান করেন। তিনি দয়ালু ও চিন্তাশীল।’

সিডনির ব্যাংকস্টাউনের শিক্ষক দম্পতির সন্তান হেইডন বড় হয়েছেন সেন্ট্রাল কোস্টে। বর্তমানে নিউ সাউথ ওয়েলস পাবলিক সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে কাজ করছেন। এর আগে সুপারঅ্যানুয়েশন খাতে বিভিন্ন পদে ছিলেন।

হেইডনকে আলবানিজের সঙ্গে প্রকাশ্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিদেশ সফরে এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেখা গেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গীদের তুলনায় তিনি তুলনামূলকভাবে গণমাধ্যমের সামনে কম আসেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে প্রথানুযায়ী হেইডন কিছু দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ক্যানবেরার ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারির প্রধান প্যাট্রনের দায়িত্ব।

প্রায় দুই দশকের বিবাহিত জীবন কাটানোর পর ২০১৯ সালে প্রাক্তন স্ত্রী নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক ডেপুটি প্রিমিয়ার কারমেল টেবাটের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় আলবানিজের।

আলবানিজের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিয়ে হুমকির কারণে ক্যানবেরায় এই বিয়ে আয়োজনকে সামনে রেখে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আলবানিজ সংসদে জানান, এই সপ্তাহে ক্যানবেরার প্রেস গ্যালারিতে আয়োজিত ক্রিসমাস অনুষ্ঠানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। সম্প্রতি বেশ কিছু গ্রেপ্তার হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি আমার নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।’