সনাতন ধর্মকে ‘নোংরা’ বলে আখ্যা দেয়ার অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ‘গান্দা ধর্ম’ বা ‘নোংরা ধর্ম’ মন্তব্য করে সনাতন ধর্মকে অপমান করা এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বছর কলকাতায় এক ঈদ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি সনাতন ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) শিলিগুড়ি সাইবার থানায় আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দিয়েছে।
রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং তার অভিযোগে দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রী সনাতন ধর্মকে ‘গান্দা ধর্ম’ বা ‘নোংরা ধর্ম’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। আর তার এই মন্তব্য ‘লাখো অনুসারীর ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসে গভীর আঘাত’ করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময়ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেখানে তিনি নাকি বলেছিলেন, কোনও একটি সম্প্রদায় হিন্দুদের ওপর হামলা করলে ‘তাদের ১২টা বেজে যাবে’।
আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং অভিযোগে বলেন, এসব মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ‘ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা’ এবং ‘সামাজিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করা
এরডিটিভি বলছে, পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) বিভিন্ন ধারায় মামলা নিয়েছে। এর মধ্যে ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ৩৫১(১) ধারা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্টে উসকানি দেয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমানের অভিযোগে ৩৫২ ধারা। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তথ্য প্রচারের অভিযোগে ৩৫৩(২) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলেছিলেন। এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রেড রোডের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘গান্দা ধর্ম’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি কোন ধর্মকে গান্দা ধর্ম বলছিলেন? সনাতন হিন্দু ধর্মকে?’ শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, মুসলিম সম্প্রদায়কে খুশি করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘অস্পষ্ট উর্দু মিশ্রিত ভাষা’ ব্যবহার করেছেন এবং অন্য একটি ধর্মকে ছোট করেছেন।
বিজেপি নেতা দাবি করেন, ওই অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঈদ’ শব্দের চেয়ে ‘দাঙ্গা’ শব্দ বেশি ব্যবহার করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর ভাষায়, ‘আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন আপনিই। খুব দ্রুতই এর ফল ভোগ করতে হবে।’