যুদ্ধবিরতির মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থায় সমঝোতা স্মারক নিয়ে ঐকমত্য হতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই চুক্তির বিষয়ে ‘সুসংবাদ’ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে ‘বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে’।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, সম্ভাব্য চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক বিবরণ খুবই কম ও স্মারকলিপির কিছু দিক পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছেে। সম্ভাব্য চুক্তিটি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কী কী থাকতে পারে
সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, ইরান অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করতে এবং জাহাজের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ না করতেও সম্মত হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।
ভারতের রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার (২৪ মে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, চুক্তিটি সফল হলে হরমুজ প্রণালি ‘টোল ফ্রি’ এবং ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ হয়ে যাবে।
তবে ইরানের গণমাধ্যম মেহের জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে কাতারসহ ইরানের বাইরের ব্যাংকগুলোতে জব্দকৃত কিছু ইরানি সম্পদ অবমুক্ত হবে। ইসরায়েল ও লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করা হবে বলে জানা গেছে।
যেগুলো নাও থাকতে পারে
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, তেহরান তার উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি। ইরানের পারমাণবিক বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির অংশ ছিল না।
দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান তার মজুত ছেড়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর পরেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই বিবৃতিটি আসল।
তেহরান যদি তার উচ্চ-ঐতিহাসিক ইউরেনিয়ামের মজুতের কিছু অংশ ছেড়ে দিতে রাজিও হয়, বাস্তবে এটি কীভাবে ঘটবে সে সম্পর্কে কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা লেবাননের হিজবুল্লাহ বা ইয়েমেনের হুতিদের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন হ্রাসের বিষয়েও খুব কমই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।