Image description

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৩ মে) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রাম্পের দাবি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ। তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছে।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। তাই এই প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে ট্রাম্পের একক দাবি সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ। অবশ্য আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ কিছুটা কমেছে। তবে এখনও বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও তিন-চার দিন অপেক্ষা করতে হবে।

এই শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়ায় মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে শনিবার তিনি তেহরান ত্যাগ করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই আলোচনাকে ‘আশানুরূপ’ বলে বর্ণনা করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও বিস্তৃত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর এই অঞ্চলে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে হরমুজ প্রণারি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নেমে আসে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ এখনও সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি মূলত তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটবে। দ্বিতীয় ধাপে হরমুজ প্রণালির সংকটের সমাধান করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৩০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে আলোচনার সময় আরও বাড়তে পারে। আগামী শুক্রবার ঈদের ছুটির পর শান্তি চুক্তি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তাদের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা তেহরানের প্রধান দাবি। তবে এর চেয়েও বড় অগ্রাধিকার হলো—নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকি বন্ধ করা এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো।

সবশেষে, ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ‘বোকামি করে যুদ্ধ শুরু করে’, তবে এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ত। দীর্ঘ সংঘাতের পরও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অস্ত্র মজুদের পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষুণ্ন রেখেছে।