Image description

পাবনার ঈশ্বরদীতে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দু'টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম আব্দুন নুর শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে মামলা দুটি নথিভুক্ত হয়৷ 

ওসি জানান, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদি হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামক ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় পাবনা জেলা জামায়াতের আমির এবং পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। 

অপরদিকে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদি হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক মক্কেল মৃধাকে।

এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপি'র আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় এবং অনুসারী।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, 'মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যুবক অস্ত্রধার সন্ত্রাসী। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যাবে সে আসলে কোন দলের।' 

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীন একটি নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি'র মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী সমর্থক আহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী এলাকা থেকে সটকে পড়েছেন। 

এদিকে শনিবার বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, 'জামায়তের পুরুষরা গ্রামের মহিলা ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে, যার কারণে জনতা তাদের প্রচারণার প্রতিবাদ করেছে। যখন তারা (জামায়াত) চর গড়গড়ি গ্রামে যায়, তখন স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে তারা স্থানীয় বাসিন্দা এবং এলাকায় বিএনপি সমর্থকদের উপর গুলি চালায় এবং আক্রমণ করে।'

হাবিব আরও অভিযোগ করেন, 'তুষার নামে এক জামায়াতপন্থী কর্মী, যিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী তালেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন, যার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মী সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।'

অন্যদিকে, একইদিন বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আয়োজনে তাদের নেতাকর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং প্রচারণার সময় তাদের উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।

জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, 'হামলায় জামায়াতের ৫০ জনেরও বেশি সদস্য আহত হয়েছেন এবং শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।'

সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল বলেন, 'আমি (তুষার) যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিল তাকে চিনি না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ।'

তালেব মন্ডলের অভিযোগ, 'তারা (বিএনপি সমর্থকরা) এই হামলার জন্য দায়ী। তারা আমাদের লোকদের উপর আক্রমণ করেছে এবং এখন আমাদের উপরই দোষ চাপাচ্ছে।'