Image description

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষে ভিন্ন দুটি ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি ও জামায়াত-দুই দলই নিজেদের একজন করে নেতাকে বহিষ্কার করেছিল। কয়েক মাস পর বিএনপি তাদের বহিষ্কৃত নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়াকে দলে ফিরিয়ে নিলেও জামায়াত এখনো কঠোর অবস্থানে। ফলে একই ঘটনার দুই নেতার পরিণতি ভিন্নরূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিএনপি নেতাকে ফিরিয়ে আনায় সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

গত ৩১ আগস্ট দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় স্থানীয়দের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার উসকানির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া। দুই মাস যেতে না যেতেই শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে তিনি দলে আগের সব পদে ফিরে পেলেন।

চিঠিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশায় তার ওপর আস্থা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতাদের কাছে।

অন্যদিকে ঘটনার একমাস পর স্থানীয়দের সঙ্গে এক উঠান বৈঠকে ‘আমরা এই এলাকার জমিদার’ বলার কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাটহাজারী উপজেলা আমির ও ওই আসনের এমপি প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলামকে তার সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। তার শাস্তি এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। এখনো দলের বাইরে তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পর্যালোচনা কিংবা শাস্তি প্রত্যাহার-কোনোটিই এখনো বিবেচনায় আনেনি দলটি। ফলে বিএনপি নেতার মতো পুনর্বহালের সুযোগ পাননি তিনি।

চবির সমাজতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল রহমান নামে একজন বলেন, ‘সংঘর্ষের দিন ক্যাম্পাসে যাঁরা বিশৃঙ্খলা করেছেন, তাদের একজনকে বিএনপি আবার দলে নিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, দলের স্বার্থই তাদের কাছে বড়-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা ন্যায়বিচার নয়।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর জব্বার বিএনপির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ওইদিন সরাসরি স্থানীয়দের উসকে দিয়েছিলেন। ভিডিও থাকার পরও বিএনপি তাদের নিজেদের নেতাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য পুনর্বহাল করল। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বা ন্যায়বিচারের কথা তারা বিবেচনায় নেয়নি। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সেই শাস্তি হঠাৎ করে তুলে নেওয়া মানে নিজেদের বক্তব্যে নিজেদেরই অস্বীকার করা। এতে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়।

আব্দুর জব্বার বলেন, চবি সংঘর্ষের ঘটনায় বাস্তব প্রমাণ, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তদন্তের আগে কাউকে পুনর্বহাল করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। বিএনপি তাদের সাংগঠনিক স্বার্থকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ওপর বসিয়েছে। অথচ আমরা এখনো আমাদের লোককে বহিষ্কার প্রত্যাহার করেনি। তিনি যদিও এই ঘটনায় সরাসরি কোনো সম্পৃক্ত ছিলেন না। শুধু ঘটনার একমাস পর এক উঠান বৈঠকে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।